বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এক বিবৃতিতে ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে মার্কিন-বাংলাদেশ যৌথ মহড়া, ইমিগ্রেশন ছাড়া মার্কিন সেনাদের প্রবেশ, কক্সবাজার বিমান ঘাটিতে গোপন সভা, বিমান ঘাটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি’ বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত ১০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেনা ও বিমান বাহিনীর ১২০ জন সদস্য ইউএস বিমান বাহিনীর নিজস্ব ১৩০ জি সুপার হারকিউলিস বিমানে বাংলাদেশে আসেন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ইউএস বাংলা বিমানে কক্সবাজার যান। তাদের কারও ইমিগ্রেশন বা পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয়নি। যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি এবং সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে করিডর প্রদান, তুরস্ককে সমরাস্ত্র কারখানার অনুমোদন দেওয়া এবং আরাকান, বান্দরবান, ভারতের মিজোরাম-নাগাল্যান্ড নিয়ে মার্কিনিদের নতুন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনার কথা যখন বহুল আলোচিত হচ্ছিল, তখন মার্কিন সেনাদের এহেন তৎপরতা বাংলাদেশ ও ভূরাজনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‘শুধু তাই নয়, গভীর রাতে কক্সবাজার বিমান ঘাটিতে এক গোপন বৈঠকে তারা মিলিত হন এবং রাতে বিমান ঘাটি পরিদর্শন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। কক্সবাজারে রেডিসন ব্লু নামে যে হোটেলে তারা অবস্থান করেন, সেখানে আগে থেকেই ৮৫টি কক্ষ বুকিং দিয়ে রাখা হয়। অথচ মার্কিন সেনাদের কারও নাম হোটেলের রেজিস্টারে এন্ট্রি করা হয়নি।’
বিবৃতিতে ফিরোজ বলেন, ‘এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়ন চলছে। এবং গত ৩১ আগস্ট ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিন এ মার্কিন সেনার মৃতদেহ পাওয়া গেছে, যিনি বাংলাদেশের সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।’
‘‘তাছাড়া এই মহড়া দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি-ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও ইতোপূর্বে আরও দুইটি যৌথ মহড়া ‘অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল’ ও ‘টাইগার লাইটিং’ নামে পরিচালিত হয়েছে।’’
‘যার উদ্দেশ্য বলা হয়েছে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃসক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মার্কিন এই সেনা টিম ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া কথা রয়েছে। সব থেকে উদ্বেগের ব্যাপার হলো— বাংলাদেশের সেনা সদর দফতর আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।’