ঢাকা কলেজের ঐহিত্য রক্ষায় ১০ দফা

ঢাকা কলেজের ঐহিত্য রক্ষায় ১০ দফা

ঢাকা কলেজের ঐতিহ্য রক্ষায় ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থীরা। অবিবেচনা-প্রসূত খসড়া অধ্যাদেশ উল্লেখ করে তারা বলছেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশ অংশীজনদের সবাকেই হতাশ করেছে। সংকীর্ণ স্বার্থে প্রণীত এই খসড়া অধ্যাদেশ সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতো সাবেক শিক্ষার্থীদেরও আহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

রবিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে এসব কথা জানান কলেজটির সাবেক ছাত্ররা।

ঢাকার সাত— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজকে একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় করছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভারতীয় উপমহাদেশের তথা বাংলাদেশের প্রাচীনতম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ ১৮৫ বছরের ঐতিহ্যের ধারক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৫৭ সালে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত। তার আগে ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত অগণিত শিক্ষার্থীর জীবন উচ্চশিক্ষায় আলোকিত করেছে। ২০ হাজারের বেশি বর্তমান শিক্ষার্থী ও কয়েক লাখ সাবেক শিক্ষার্থীর আবেগ-অনুভূতিতে একাকার হয়ে আছে ‘ঢাকা কলেজ’ নামের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটিতে। শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাস, ভূমিকা ও প্রভাব পর্যালোচনায় এটি একটি ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বা বিশ্ব ঐতিহ্য। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সবাই আমরা এই মহিরুহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যকর ভূমিকা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঐতিহাসিকভাবে ঢাকা কলেজের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে এসেছে। ২০১৭ সালে কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ করে ঢাকা কলেজসহ ঢাকার খ্যাতনামা সাতটি সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যাস্ত করায় সংকটের সূত্রপাত হয়। সিলেবাস সম্পন্ন না করা, পরীক্ষাগ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত ও আন্দোলনমুখর হয়ে ওঠে। সংকট নিরসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বভাবিকভাবে সাত কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল— শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি নতুন নিয়ন্ত্রণকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

১০ দফা

১) যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে।

২) এই কলেজের অবকাঠামোসহ এক ইঞ্চি জমিও অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের নামে লিখে দেওয়া যাবে না।

৩) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণে এবং বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষা-সংকোচনমূলক কোনও সিদ্ধান্তগ্রহণ করা যাবে না।

৪) অক্সফোর্ড, ফেডারেল বা অন্য কোনো মঙ্গে অনুসরণে একটি নিয়ন্ত্রণকারী বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে ঢাকা কলেজসহ প্রসিদ্ধ সাতটি সরকারি কলেজ স্বমহিমায় স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলকভাবে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।

৫) উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। তাদেরকে ‘নিজভূমে পরবাসী’ বানানোর ষড়যন্ত্র পরিহার করতে হবে।

৬) উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সিলেবাস সমাপ্তকরণ, যথাসময়ে পরীক্ষাগ্রহণ ও দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে; শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সেশনজটমুক্ত করতে হবে।

৭) শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত যৌক্তিক করার জন্য দ্রুত শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার বৈষম্য নিরসনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ বিভাগপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ/পদায়ন করতে হবে। সময়ের দাবিতে নতুন নতুন চাহিদাসম্পন্ন বিভাগ খুলতে হবে।

৮) শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মেধাবৃত্তি প্রদান, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি, খাবারে ভর্তুকি প্রদান ও শিক্ষাঋণ প্রদান করতে হবে। তাদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা-কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে হবে। রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমান করতে হবে।

৯) শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তনশিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, সুশীলসমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের আলোকে (লোক দেখানো মতামত-গ্রহণ নয়), টেকসই ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

১০) প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এবং শতবছরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাইব্রিড শিক্ষা বা কোনও অপ্রচলিত শিক্ষা কাঠামোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণে পরিণত করা যাবে না। কোনও অবস্থাতে সমাজের নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ বা সীমিত করা যাবে না।

Comments

0 total

Be the first to comment.

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ BanglaTribune | শিক্ষা

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবার উদ্বেগ জানিয়েছে...

Sep 23, 2025

More from this User

View all posts by admin