ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন-সমঝোতার জন্য একটি বিশেষ কমিটি করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই কমিটিতে রয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করেন সদস্যরা। নির্বাচনের মনোনয়নের জটিলতা থাকলেও এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলার সুযোগ পাননি নেতারা। দলের এখন এজেন্ডা নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে নতুনত্ব আনার বিষয়ে।
দলের সদস্যরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের শাসন-পরবর্তী নতুন একটি সময়ের নির্বাচন হচ্ছে, যখন ভোটারদের মন ও মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। এক্ষেত্রে নতুন ভোটারদের আগ্রহকে সামনে রেখে সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে কীভাবে নতুন দিনের সরকার গঠনে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়টি নেতৃত্বের মনোযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে ২৩৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে বিএনপি ও যুগপৎ শরিকদের মনোনীত করার কথা রয়েছে।
বিএনপির বিশেষ কমিটি
স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক সমঝোতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ও পরিবেশের বড় পরিবর্তন না হলে এই কৌশলেই নির্বাচনের পক্ষে দলটির নেতারা। ইতোমধ্যে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিল, সেসব দলের শীর্ষনেতাদের আসন সমঝোতার বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা বিগত দিনের আন্দোলনে জনগণের পাশে ছিলেন, যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তাদের বিষয়ে বিএনপি সব সময় আন্তরিক।’
সূত্র জানায়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি হয়েছে। এই কমিটি যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আসন বণ্টন নির্ধারণ করবে।
সূ্ত্রের দাবি, এখনও অন্তত সব দলের শীর্ষনেতাদের বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক।
গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা সাইফুল হক মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘‘এখনও বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি।’’
মঞ্চের একাধিক নেতা জানান, গণতন্ত্র মঞ্চে আসন বণ্টন নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিরতার পেছনেও বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টনের দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় বিএনপির সমর্থনের পরও হেরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি চিন্তিত। বিশেষ করে যুগপতের বেশ কয়েকজন নেতার বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে না, এমন অগ্রিম তথ্য পেয়েছেন দলটির শীর্ষনেতারা।
সূত্রের দাবি, আসন বণ্টন নিষ্পত্তি না হওয়ায় সন্দেহ আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।