মৃতদেহ আগুনে সৎকার করার আগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন ওয়াত রাট প্রাখং থাম বৌদ্ধ মন্দিরের এক শীর্ষ সদস্য। এমন সময় কফিনের ভেতর থেকে হালকা টোকার শব্দ শুনতে পেয়ে চমকে ওঠেন। তড়িঘড়ি কফিনের ঢাকনা সরালে দেখা যায়, দাহ করতে নিয়ে আসা নারীর ‘মরদেহ’ নড়াচড়া করছে!
ঘটনাটি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে ননথাবুরি প্রদেশের। ওইদিনের ঘটনার ভিডিও সংস্থাটির ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়, যেখানে দেখা যায়, এক পিক আপ ট্রাকে রাখা সাদা কফিনে ওই নারী শুয়ে আছেন এবং তিনি ইতস্তত হাত ও মাথা নাড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারীর বয়স ৬৫ বছর। বৃদ্ধার ভাই তাকে দাহ করার জন্য নিয়ে এসেছিল। সোমবার (২৪ নভেম্বর) মার্কিন বার্তাসংস্থা এপিকে এসব কথা বলে মন্দিরের সাধারণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপক পাইরাত সুতথুপ।
তিনি বলেন, কফিনের ভেতর থেকে ক্ষীণ টোকার শব্দ শুনে তারা অবাক হয়ে যান। তার নির্দেশে কফিনের ডালা খোলা হলে সবাই চমকে ওঠে। তারা দেখেন, ‘মরদেহের’ চোখ সামান্য খোলা এবং তিনি কফিনের কাঠে টোকা দিচ্ছেন।
ওই বৃদ্ধাকে তার ভাই ৫০০ কিলোমিটার দূরের ফিতসানুলোক প্রদেশ থেকে দাহের জন্য ব্যাংকক নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছেন পাইরাত। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, তার বোন প্রায় দু বছর ধরে শয্যাশায়ী। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার কেবল অবনতি হচ্ছিল।
ব্যাংকক নেওয়ার দুদিন আগে পরিস্থিতি এতোটাই গুরুতর হয়ে পড়ে যে, ওই নারীর শ্বাস চলছিল কিনা সেটাও নাকি তিনি বুঝতে পারেননি। এরপর তিনি বোনের অঙ্গ দানের উদ্দেশ্যে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।
পাইরাত বলেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তার বোন মৃত্যুর পর অঙ্গপ্রদানে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু মৃত্যুসনদ না থাকায়, হাসপাতাল তার অঙ্গ নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তার মন্দিরে বিনামূল্যে শবদাহ করা যায় জানতে পেরে, রবিবার তাদের কাছে আসে ওই ব্যক্তি। কিন্তু মৃত্যুসনদ না থাকায় সেখানেও দাহের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পাইরাত বলেন, তিনি যখন মৃত্যুসনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছিলেন, তখনই তারা কফিন থেকে নক শোনেন। পরে তারা বৃদ্ধাকে সাধারণ পরীক্ষা করে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে পাঠান।
মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু ওই নারীর চিকিৎসা ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানান পাইরাত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান