দুই–তিনটি রাজনৈতিক দল পিআর ব্যবস্থা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না: মেজর হাফিজ

দুই–তিনটি রাজনৈতিক দল পিআর ব্যবস্থা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না: মেজর হাফিজ

কিছু রাজনৈতিক দল, যারা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল, ৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল এবং সব সময় জনগণের বিপক্ষে ছিল, তারা এখন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চায়। ১৮ কোটি জনগণের দেশে দুই-তিনটি রাজনৈতিক দল এই পিআর পদ্ধতির নির্বাচন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কথাগুলো বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমে।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে তাদের সংস্কৃতি অনুসারে ও জনগণের অভিজ্ঞতার আলোকে সেই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট, এইভাবেই একজন ব্যক্তিকে তারা নির্বাচিত করে এসেছে। প্রতিটি আন্দোলন–সংগ্রামে বাংলাদেশের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণ কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ও জামায়াত ইসলামের (জামায়াতে ইসলামী) কিছু লোক মনে করেন, জনগণ তাঁদের ভোট দিতে চায় না। তাঁরা ভোটের সিস্টেম পরিবর্তন করতে চান। তাঁরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন বা পিআর বলে একটা ব্যবস্থায় যেতে চান।

মেজর হাফিজ বলেন, সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৫৬ ভাগ মানুষ জানেই না যে পিআর নির্বাচন কী? সুতরাং এ ধরনের একটি ব্যবস্থা বাংলাদেশের ওপরে চালিয়ে দেওয়া অন্যায় হবে। জনগণের রায়কে সব সময় জামায়াতে ইসলামী ভয় পায়, এ জন্য প্রতিটা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও তারা কোনো দিন ১৭টার বেশি আসন পায়নি।

বর্তমান প্রশাসনে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা বসে আছে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এদের সরানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই এবং এরা থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানিয়েছি, আবারও জানাব, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এই প্রশাসন ব্যবস্থাকেও নিরপেক্ষ করতে হবে। আমরা স্বৈরাচারের দোসরদের মাঠে রেখে নির্বাচনে যেতে পারি না।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর বড় তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেজর হাফিজ বলেন, ‘প্রফেসর ইউনূসকে আমরা সম্মান করি। তিনি দেশের গৌরব। কিন্তু রাষ্ট্র চালনায় তিনি সফলতার মুখ এখনো দেখতে পাননি। ১০৪ জনকে নিয়ে তিনি কেন জাতিসংঘে গেলেন? ১০ মিনিটের একটা ভাষণ দেবেন। আমি জাতিসংঘে দুইবার গিয়েছি এই ধরনের মিটিংয়ে। সেখানে যে অধিবেশন চলে অনেক রাষ্ট্রের কর্ণধাররা সেটা জানেই না। সেখানে একেকটা বক্তৃতা হয় ১০ মিনিটের জন্য। কেউ শোনে, কেউ শোনে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হলে শোনে।

‘...এ সরকার এই ধরনের একটি মিটিংয়ের এর জন্য ১০৪ জনের বহর নিয়ে গিয়েছে। এটা বাংলাদেশের জনগণের ট্যাক্সের অর্থের অপচয়। তাঁর প্রেস টিমের পাঁচজন গিয়েছে, অন্যান্য সাংবাদিকেরাও তো গিয়েছে। এটা আপনার আমাদের অর্থের অপচয়। ১০৪ জনকে নিয়ে এইভাবে পিকনিক করতে যাওয়া বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে মানায় না। দেশে আজকে গণতন্ত্র নেই বলে এ রকম হচ্ছে। আজকে যদি একটা নির্বাচিত সরকার থাকত, এখানে তাহলে এমন কাজ করতে পারত না।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহীদ বাবলু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক হোসেন, আবদুল হালিম। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাহাবুদিন রেজা, মো. শরীফ হোসেন, আবুল বাসেত, মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম নুরু, ডা. কে এম আই মন্টিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin