আর মাত্র ছয় দিন পরেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা। এই পূজাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ফুটপাত থেকে শুরু করে শপিংমলগুলো। রাজধানীর কমবেশি সব বিপণিবিতানেই চলছে পূজার কেনাবেচা। পোশাকের দোকানসহ বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স, গাউছিয়া, অরচার্ড পয়েন্ট, ইস্টার্ন প্লাজা, এলিফ্যান্ট রোড, অরচার্ড প্লাজা, রাপা প্লাজা, গ্রেট ওয়ালসহ বেশ কয়েকটি শপিংমলে পূজার জমজমাট বেচাকেনা দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। তারা জানান, নারীদের কেনাকাটায় জামদানি, কাতান, সিল্ক, সুতি ও তাঁতের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এমব্রয়ডারি শাড়ি ও লেহেঙ্গাও পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বরাবরের মতো থ্রি পিস ও পাঞ্জাবির চাহিদাও রয়েছে।
পুরান ঢাকার গ্রেট ওয়াল শপিংমলে পূজার কেনাকাটা করতে আসা অর্পনা রানী বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শাড়ি আর গয়না ছাড়া পূজা পূর্ণতা পায় না বলে মনে হয়। পূজায় নতুন শাড়ি অন্যরকম আনন্দ দেয়। আমি নিজের জন্য দুটো শাড়ি কিনলাম, মেয়ের জন্য থ্রি-পিস আর ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি। এখন আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা বাকি।’
নিউ মার্কেটে পূজার বাজার করতে আসা গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শাঁখারিবাজার থেকে শাখা-শঙ্খ, কিত্তনের মালা, কদম মালা, ঘণ্টা, ঘট, প্রদীপ, আগরদানি, ঠাকুরের মালা, জবের মালা, মুকুট, ধুতি, পাঞ্জাবিসহ পূজার নানা জিনিসপত্র কিনেছি। এখন বাকি কেনাকাটা করতে এখানে এসেছি। এখান থেকে দেখে শাড়ি আর থ্রি পিস নেবো।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cf793545756" ) );
নিউ মার্কেটে বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পূজা উপলক্ষ্যে পুরুষের ধুতি, পাঞ্জাবি, শর্ট শার্ট ও ট্রেন্ডি পোশাকের চাহিদা বেশি। আর শিশুদের চাহিদা বাহারি ড্রেস, জুতো ও টুপি ভালো বিক্রি হচ্ছে।’
শপিংমলের পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাতেও পুজার বেচাকেনার ধুম লেগেছে। ফুটপাতের জামাকাপড় বিক্রেতা সিদ্দিক উল্লাহ্ বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে থ্রি পিস বিক্রি বেড়েছে। পূজা উপলক্ষ্যে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এখনও তো পাঁচ ছয় দিন বাকি আছে পূজার। দুই তিনদিন পর বেচাবিক্রি আরও বাড়বে।’
এই বিক্রেতা আরও বলেন, ‘আগে দৈনিক দেড় দুই হাজার টাকার বেচাকেনা হতো। এখন অনায়াসে আট দশ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। খাওয়া খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি ভালোই লাভ হচ্ছে।’
এদিকে নগরীর ইমিটেশনের গহনার দোকানগুলোতেও বেশ ভিড় গেছে। নারীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি, গলার হার, আংটিসহ নানারকম অলংকার কিনছেন। পোশাকের পাশাপাশি নারীদের জুয়েলারি, সিঁদুর, চুড়িসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cf79354578e" ) );
শাঁখারি বাজারের ইমিটেশনের গহনা বিক্রেতা চন্দন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও উৎসবে নারীদের ইমিটেশনের গহনার চাহিদা থাকে। জামা কাপড় কেনার পর সেটির সঙ্গে ম্যাচিং করে পরার জন্য নারীরা ইমিটেশনের গহনা কেনেন। সেই হিসেবে এবার পূজা বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত চলবে শারদীয় দুর্গোৎসব। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মহাষষ্ঠীর আগের দিনগুলোতে বাজারে ক্রেতাদের ঢল নামবে সবচেয়ে বেশি।