কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করবে তিনটি বিষয়—এমন মন্তব্য করেছেন মেটার চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) অ্যালেক্স শুল্টজ। সম্প্রতি তিনি জনপ্রিয় ‘এ১৬জেড পডকাস্ট’-এ এই ধারণা তুলে ধরেন।
১. দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে কর্মী কমে যেতে পারে
শুল্টজের মতে, এআই অনেক কাজকে দ্রুত ও দক্ষ করে তুলবে। ফলে যেসব কাজ আগে মানুষ করতো, সেগুলোর চাহিদা কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু স্বয়ংক্রিয় হবে, অনেক কিছু আরও দক্ষভাবে হবে … সেই কাজের প্রয়োজন কমে যাবে’।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই এ ধরণের প্রবণতা দেখাচ্ছে। যেমন, অ্যামাজন-এর সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি বলেছেন, এআই-নির্ভর উৎপাদনশীলতা কর্পোরেট কর্মীসংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে।
২. এমন নতুন কাজ তৈরি হবে যা আগে সম্ভব ছিল না
কেবল ছাঁটাই নয়, এআই নতুন অনেক কাজের সুযোগও তৈরি করবে বলে মনে করেন শুল্টজ। যেমন—এআই ট্রেইনার, প্রম্প্ট ইঞ্জিনিয়ার, এআই গাইডেন্স স্পেশালিস্ট—এ ধরনের নতুন পেশার চাহিদা ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
৩. ব্যয়বহুল কাজ এখন সহজেই করা সম্ভব
তিনি আরও বলেন, আগে যেসব কাজ অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর ছিল, এখন এআইয়ের কারণে তা বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে উঠছে। যেমন—চ্যাটবট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ। আগে এসব প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সীমিত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এআই প্রযুক্তি সেই বাধা দূর করেছে।
এজিআই সবকিছু বদলে দিতে পারে
শুল্টজ সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি আর্টিফিসিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ( এজিআই) বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে শ্রমবাজারের সব পূর্বাভাস আমূল পরিবর্তিত হতে পারে। তার ভাষায়, ‘এটা নির্ভর করে আপনি কতটা ‘বিরল’ পরিবর্তন আশা করেন’।
শুল্টজের মতে, এআই শ্রমবাজারে দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে—কখনও কর্মী কমবে, আবার কখনও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সবকিছু নির্ভর করবে দক্ষতা, নতুন সুযোগ এবং খরচসাপেক্ষ কাজকে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা—এই তিনটি উপাদান কীভাবে সামঞ্জস্য করা হয় তার ওপর।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া