জুলাই আন্দোলনের মামলায় কারাবন্দি অভিনেতা ও সাবেকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক ফেরদৌস রহমান গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানির জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।
এদিন শুনানিকালে আসাদুজ্জামান নূরকে আদালতে হাজির করা হয়। আসাদুজ্জামান নূরের পক্ষে তার আইনজীবী কাওছার আহমেদ জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আগামী ধার্য তারিখ ১২ অক্টোবর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে তার অ্যাকাউন্টে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, নূরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসব লেনদেনের উৎস ‘অস্পষ্ট’।
উল্লেখ্য, সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।