ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে দহকুলা রেল সেতুর ওপরে স্লিপার ও রেল সংযোগে লোহার নাট বল্টুর পরিবর্তে বাঁশের মোটা কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুটির ওপরে এমন বাঁশের কঞ্চি রয়েছে কমপক্ষে ২৫ স্থানে। আর এতে রেলপথের সেতুর ওপরের অংশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে দহকুলা রেল সেতুর ওপর দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কমপক্ষে ২৮টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে। যেকোনও সময় একটি বড় রকমের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রেলপথের পাশে সংশ্লিষ্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার কৈবর্তগাঁতী, লাহিড়ী মোহনপুর ও দহকুলা গ্রামের স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবকরা রাতের অন্ধকারে রেলসেতু ও তার দুই পাশের রেলপথের নাট বল্টু ও ফিস প্লেট চুরি করে বেচে দেয়। এরাই দহকুলা রেল ব্রিজের ওপরের রেল ও স্লিপারের সংযোগ স্থলের নাট বল্টু চুরি করেছে বলে তাদের ধারণা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রেলপথ মেরামতকারী কর্মীরা সাময়িকভাবে চুরি যাওয়া নাট বল্টুর স্থলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল করাচ্ছেন। আর এতে চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথে হাজার হাজার ট্রেন যাত্রী চলাচল করছেন। দ্রুত উক্ত সেতুর ওপরে চুরি যাওয়া নাট বল্টু নতুন করে সংযোজন করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
কৈবর্তগাঁতী গ্রামের আবু হুরাইরা জানান, সোমবার (২০ অক্টোবর) তিনি দহকুলা রেল সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সেতুর ওপর কমপক্ষে ২৫ স্থানে রেল ও স্লিপারের সংযোগ স্থলে লোহার নাট বল্টুর পরিবর্তে বাঁশের তৈরি বল্টু লাগানো দেখেছেন। প্রায় ১০০ ফুট লম্বা সেতুটি এখন ট্রেন চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন হুরাইরা।
এ বিষয়ে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। দ্রুত ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।