আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, বাগরাম বিমানঘাঁটি নিয়ে কোনও ধরনের সমঝোতা সম্ভব নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক মার্কিন ঘাঁটিটি ফেরত দেওয়ার দাবি করেছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিফ অব স্টাফ ফসিহুদ্দিন ফিত্রাত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, কিছু মানুষ রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বাগরাম ঘাঁটি ফেরত নিতে চাইছে। তবে আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি জমিও কারও সঙ্গে ভাগ করা সম্ভব নয়। আমাদের এর কোনও প্রয়োজন নেই।
পরে সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা আফগানিস্তানের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়।
কাবুলের উত্তরে অবস্থিত বাগরাম বিমানঘাঁটি ছিল আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বছরের যুদ্ধ অভিযানের কেন্দ্রস্থল। ২০২১ সালের জুলাইয়ে মার্কিন ও ন্যাটো সেনারা সেখান থেকে সরে যায়। এরপরই অল্প সময়ের মধ্যে আফগান সেনারা ভেঙে পড়ে এবং তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে।
গত সপ্তাহে ব্রিটেন সফরে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমবার প্রকাশ্যে ঘাঁটি ফেরত নেওয়ার কথা বলেন। পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করছি। বাগরাম আমাদের চাই, এখনই চাই। যদি না দেয়, তাহলে কী হবে সেটা তারা দেখবে। বক্তব্যে ট্রাম্প অঘোষিত শাস্তির হুমকিও দেন।
ট্রাম্প বহুবার দাবি করেছেন, ঘাঁটিটি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ক্ষতি। বিশেষ করে এটি চীনের সন্নিকটে হওয়ায়। ২০১৯ সালে তিনি নিজেও বাগরাম সফর করেছিলেন।
বাগরাম ঘাঁটি সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় ১৯৫০-এর দশকে গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এটি সম্প্রসারিত হয়। সোভিয়েত দখলদারত্বের সময় আরও উন্নত করা হয়। মার্কিন নিয়ন্ত্রণে ২০১০ সালের দিকে ঘাঁটিটি ছোট্ট একটি শহরে রূপ নেয়। সেখানে ছিল সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করেছে, ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ বন্দিদের ওপর মার্কিন বাহিনী বাগরামে ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে।