তেলেগু ছবির নায়িকা তিনি। তাঁর অভিনয়জীবনের বয়স মাত্র তিন বছর। কিন্তু এরই মধ্যে সর্বভারতীয় স্তরে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী ঋতিকা নায়েক। সদ্য মুক্তি পাওয়া তেলেগু ছবি ‘মিরাই’-এর হাত ধরে ঋতিকার খ্যাতি দক্ষিণের গণ্ডি পেরিয়ে ধীরে ধীরে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। দর্শকেরা ভালোবাসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন এই তরুণ অভিনেত্রীকে। সম্প্রতি ওটিটি প্লে ডটকমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঋতিকা নিজের অভিনয়যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন। তেলেগু রোমান্টিক-কমেডি ছবি দিয়ে শুরু হয়েছিল ঋতিকার অভিনয়যাত্রা। বিদ্যা সাগর চিন্তা পরিচালিত ‘অশোকা ভানামলো অর্জুনা কল্যায়াণম’ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অভিষেক ছবিতেই দক্ষিণ ভারতের দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন এই নবাগত। তবে ‘মিরাই’-এর মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কার্তিক গত্তামনেনি পরিচালিত এই ফ্যান্টাসি-অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চারধর্মী ছবিটি মুক্তি পেয়েছে বিশ্বব্যাপী। আর সে ছবির সাফল্যে ও দর্শকের ভালোবাসায় আপ্লুত ঋতিকা।
‘মিরাই’ ছবিটি প্রসঙ্গে ঋতিকা বলেন, ‘অভিষেকের পর আমি এক শক্তিশালী চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলাম। ছবিটি আমাকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। এই ছবিতে আমার অভিনীত চরিত্রটি শোনামাত্রই আমার দারুণ লেগেছিল। চরিত্রটির প্রাণশক্তি, গভীরতা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল।’ চরিত্রটিকে বাস্তবায়িত করতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। সেই কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ ফল পেয়েছেন বলেই মনে করেন ঋতিকা। চিত্রসমালোচক থেকে শুরু করে সাধারণ সিনেমাপ্রেমী—সবাই তাঁর অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
দক্ষিণি ছবির হাত ধরে অভিনয় শুরু করলেও ঋতিকা আসলে উত্তর ভারতের মেয়ে। দিল্লিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। মাতৃভাষা ওড়িয়া হলেও এখন তেলেগুতেও তিনি বেশ সাবলীল। ২৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী সাক্ষাৎকারে জানান, অভিষেক ছবির আগে তাঁকে তিন মাস ধরে তেলেগু শেখার জন্য রীতিমতো কর্মশালায় অংশ নিতে হয়েছিল। ঋতিকা বলেন, ‘ছবিটির আগে তিন মাস ধরে আমার ওয়ার্কশপ চলেছিল। আমি রীতিমতো কাগজ-কলম নিয়ে পড়াশোনা করতাম। মনে হচ্ছিল, আমি যেন দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ছোট থেকেই ছটফটে, হাসিখুশি আর বহির্মুখী স্বভাবের ছিলেন ঋতিকা। নাচ, গান, অভিনয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্কুলে পড়াকালে আমি নাচ, অভিনয়ে অংশগ্রহণ করতাম। পড়াশোনায় কোনো দিনই আহামরি ছিলাম না। ছাত্রী হিসেবে নিতান্তই সাধারণ ছিলাম। আমি এতটাই বহির্মুখী ছিলাম যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এতে বিরক্ত হয়ে যেতেন। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষকই আমার নামে মা–বাবার কাছে অভিযোগ করেছেন যে ক্লাসে আমি ভীষণ অমনোযোগী আর খুব বেশি কথা বলি।’
এই প্রাণবন্ত স্বভাবই ঋতিকাকে অভিনয়ে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ‘অশোকা ভানামলো অর্জুনা কল্যায়াণম’-এর ‘বসুধা’ চরিত্রের সঙ্গে নিজের অদ্ভুত মিল খুঁজে পান ঋতিকা। তাঁর ভাষায়, ‘বসুধার সঙ্গে আমি নিজেকে মেলাতে পেরেছিলাম। আমি ওরই মতো প্রাণবন্ত, হাসিখুশি আর স্বাধীনচেতা মেয়ে।’
আগামী দিনে আরও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের যাত্রাকে আলোকময় ও সুন্দর করে তুলতে চান ঋতিকা। দর্শকের ভালোবাসা আর প্রশংসার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে আরও কিছু ভিন্নধর্মী প্রকল্প। সব মিলিয়ে নিজের যাত্রাকে বিশেষ ও স্বপ্নময় মনে করেন তিনি।