চট্টগ্রাম বন্দরে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তিতে জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে সরকার। অবিলম্বে এ চুক্তি জনগণের সামনে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ।
বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এস’র সঙ্গে চুক্তিতে তাড়াহুড়ো, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ধারা গোপন রাখায় গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা।
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকায় পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর সঙ্গে চুক্তি সই করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি এবং জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের জন্য বন্দরে বাংলাদেশের কতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এ দু’টি চুক্তিতে (লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল) অন্তবর্তীকালীন সরকার তাড়াহুড়ো ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ধারা গোপন রেখে চুক্তি সম্পাদন করেছে। একইসঙ্গে এই দুটি চুক্তিতে জুলাই সনদ স্পষ্টভাবে ভঙ্গ করা হয়েছে।
তারা উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদের ২৬ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এমন আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পর আইনসভার উভয়কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ট ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে”। বর্তমানে আইনসভা না থাকলেও সরকারের সামনে কয়েকটি বিকল্প ছিল বলে আমরা মনে করি।’
‘প্রথমত, সরকার এসব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ করে জনগণের মতামত চাইতে পারতো, দ্বিতীয়ত, জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধি রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো এবং তৃতীয়ত, জনগণের নির্বাচিত আইনসভার হাতে এ দায়িত্ব অর্পন করতে পারতো। কিন্তু সরকার এর কিছুই না করে অত্যধিক তাড়াহুড়ো ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ধারা গোপন রেখে চুক্তি সম্পাদন করে জনমনে শঙ্কা ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে।’
তারা অবিলম্বে এ দু’টি চুক্তি স্থগিত করে তা জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানান।