বিদেশে গিয়ে একটু আয়েশ করে বাসার পরিবেশে থাকবেন বলে আপনি যখন জায়গা খুঁজছেন, তখন প্রতিটি শহরে মানুষ তেমন আয়োজন করে রেখেছেন। নাম দিয়েছেন এয়ারবিএনবি (সব সুবিধাসহ কম সময়ের জন্য বাড়ি/ঘর ভাড়া)। আপনি চেনেন না জানেন না, একটা শহরে কয়েক দিনের জন্য একটা ঘরের মালিক! নিজের মতো রাঁধবেন, খাবেন, ঘুমাবেন।
বলতে পারেন, এসব তো হোটেলেও পাওয়া যায়। হ্যাঁ, যায়। কিন্তু এখানে একটু ঘরোয়া পরিবেশ পাওয়া যাবে। তবে অচেনা শহরে হুট করে যে কোনও এয়ারবিএনবি’কেই বিশ্বাস করবেন কী করে? আবার যিনি হোস্ট তিনি আন্তরিক না হলে এই অল্পসময়েও হতে পারে তিক্ত অভিজ্ঞতা, যেটা হয়তো আপনার পুরো ছুটিটা মাটি করে দিবে। হোস্ট কত দ্রুত জবাব দেয়, সেটাও লক্ষ্য করুন। রিভিউতে যদি হোস্টের সহায়তার প্রশংসা থাকে, সেটি ভালো লক্ষণ। ভালো হোস্ট ছোট ঘরকেও আরামদায়ক করে তুলতে পারে, আর খারাপ হোস্ট ভালো জায়গাকেও নষ্ট করে দিতে পারে।
যারা নিয়মিত ট্র্যাভেল করেন, তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু টিপস দিয়ে থাকেন। সেই ব্লগগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন বা আপনার পরিচিত যারা এই সেবা নিয়েছে কখনও তাদের সঙ্গে কথা বলে নিন। সাধারণত যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হয়, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো- jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f8c870c841f" ) ); ঠিক করুন আপনি কোথায় থাকতে চান
কোনও একটি শহরে অনেক এয়ারবিএনবি থাকতে পারে। এমন জায়গায় থাকার জন্য বাছাই করুন যেটা নিরাপদ, সংযোগ ভালো এবং ঘোরাঘুরির জন্য সুবিধাজনক। গুগল ম্যাপ বা অনুরূপ কোনও অ্যাপ দিয়ে দেখে নিন সেখান থেকে জনপ্রিয় সব জায়গা, গণপরিবহন, বাজার বা দর্শনীয় স্থানের দূরত্ব কীরকম। এলাকাটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করুন (বিশেষ করে আপনি যদি রাতে পৌঁছান)। মনে রাখবেন, দাম কম রাখতে শহরের কেন্দ্র থেকে খানিক দূরে সুলভে এয়ারবিএনবি নিলে পরে যাতায়াতে বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে।
রিভিউ বা মতামতগুলো পড়ে ধারণা নিন
পূর্বে যারা এই এয়ারবিএনবি ব্যবহার করেছেন, সেসব অতিথিদের অভিজ্ঞতা জানতে পারলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। শুধু রেটিং না দেখে সাম্প্রতিক রিভিউগুলো পড়ুন— এতে বোঝা যাবে জায়গার বর্তমান অবস্থা কেমন। ‘আলো নেই’, ‘নোংরা বাথরুম’, ‘ইন্টারনেট কাজ করে না’, ‘হোস্ট যোগাযোগ করে না’— এসব বারবার আসলে সতর্ক হোন। যদি দেখেন কোনও রিভিউ নেই বা খুব সাধারণ অস্পষ্ট মন্তব্য, তাহলে সেই থাকার জায়গাটি আপনার জন্য নয়। সম্ভব হলে শোবারঘর, বাথরুম, রান্নাঘর, প্রবেশদ্বার ও আশেপাশের এলাকার স্পষ্ট ছবি আছে কিনা দেখুন।
কনফার্ম করার আগে আলাদা করে হাউস রুলস জেনে নিন— অনেক সময় রাতে আসা নিষেধ, অতিরিক্ত ফি বা নির্দিষ্ট নিয়ম থাকতে পারে।
বিদেশে গেলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ কেমন তা বিশেষভাবে যাচাই করুন। আপনার যা যা দরকার সেগুলো আছে কিনা নিশ্চিত হন। সব থেকে বেশি জরুরি জিনিস ওয়াইফাই, রান্নাঘর, এসি/পাখা, ওয়াশিং মেশিন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে কিনা জেনে নিন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f8c870c84da" ) ); খরচ বিষয়ে খোলাখুলি আলাপ করে নিন
বুকিংয়ের সময় যেন লুকানো খরচ না থাকে। এয়ারবিএনবি বুকিংয়ের সময়ে অনেক সময় কম দাম দেখায়, কিন্তু শেষে ক্লিনিং ও সার্ভিস ফি যোগ হয়। শুধু প্রতি রাতের দাম নয়— মোট খরচ দেখে তুলনা করুন।
ক্যানসেল ও রিফান্ড পলিসিও পড়ে নিন। আপনার থাকা শেষ করে যখন ছেড়ে দিবেন সেসময় মোট কত দিতে হবে, সেই ফুল অ্যামাউন্টটা লিখিত নিয়ে নিন। এবং এরপর বাড়তি কিছু খরচ হলে সেটা হোস্টকে করতে হবে সেটিও নিশ্চিত আলাপ করে নিন।
আপনি নিরাপদে নিজের মতো থাকা নিশ্চিত করুন
অনেক সময় হোস্ট একাকীত্বের কারণে পড়ে থাকা ঘর এয়ারবিএনবিতে দিয়ে রাখে। এসব ক্ষেত্রে প্রাইভেসি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকে। বয়স্ক মানুষ হয়তো কিছুটা সময় কথা বলতে চাইতে পারেন। সেগুলোর সাথে মানিয়ে চলতে হবে। কোনও পরিবারের সঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে দরজায় লক, প্রাইভেট এন্ট্রান্স, নিরাপত্তা ক্যামেরা (শুধু কমন এরিয়াতে) এবং আশেপাশের নিরাপত্তা যাচাই করুন। একা ভ্রমণ করলে অন্যান্য একক ভ্রমণকারীর রিভিউ পড়ুন।
আশা করছি এভাবে আগালে আপনার ভ্রমণ সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হবে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f8c870c8507" ) );