গাজার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিকদের নিয়ে সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গাজা পুনর্গঠনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসলামি দেশগুলোর ভূমিকা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গত ১০ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি বিমান হামলায় সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তুরস্কের স্থানীয় সময় বিকেল ২টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৫টা) ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া বৈঠকে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফিলিস্তিনিদের হাতে দেওয়ার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ে চাপ দেবে আঙ্কারা।
এর আগে গত সপ্তাহে হামাসের শীর্ষ আলোচক খালিল আল-হাইয়্যার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিদান। তিনি বলেন, গাজার গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। শুধু যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। গাজা ফিলিস্তিনিদের দ্বারাই শাসিত হওয়া উচিত।
সোমবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইসরায়েলের আচরণ অত্যন্ত নেতিবাচক।
তিনি আরও বলেন, গাজার পুনর্গঠনে মুসলিম দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আরব লিগ ও ওআইসি প্রস্তুত করা পুনর্গঠন পরিকল্পনাটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
হামাসের প্রতি তুরস্কের প্রকাশ্য সমর্থন ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে শুরু থেকেই সন্দিহান ইসরায়েল। তেল আবিব জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে তুরস্কের কোনও ভূমিকা তারা চায় না।
হাকান ফিদান বৈঠকে ইসরায়েলকে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশের অনুমতি দিতে আবারও আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে অনেক ত্রাণ কাফেলাই এখনও ক্ষুধার্ত গাজার জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
তুরস্কের দুর্যোগ সহায়তা দলও গাজায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে আঙ্কারা। দলটি গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার ও ইসরায়েলি জিম্মিদের সন্ধানে কাজ করতে চাইলেও, ইসরায়েলি সরকারের অনুমতি না থাকায় তাদের প্রবেশ সম্ভব হয়নি।