গাজায় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে নিজেদের ক্ষমতা পুনর্দখলের ইঙ্গিত দিয়েছে হামাস যোদ্ধারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী সরে গেলেও মঙ্গলবারও সহিংসতা ও অস্থিরতা থামেনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার রাতে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গাজা সিটির একটি জনসমাগমস্থলে সাত জন ব্যক্তিকে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করছে হামাসের সশস্ত্র যোদ্ধারা। হামাসের এক সূত্র ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির দাবি, নিহতরা ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল।
গাজার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হামাস যোদ্ধারা টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে ত্রাণবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে হামাস ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি ড্রোনের গুলিতে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে পাঁচজন এবং খান ইউনুসের কাছে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামাস বলেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে সেনাদের দিকে এগিয়ে যাওয়া লোকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নতুন মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক ভোর শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন বাধা ও সংশয়।
ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজার বহু এলাকায় অবস্থান করছে। প্রতিশ্রুত মানবিক সহায়তার পরিমাণও এখনও কার্যকর হয়নি। ২২ লাখ মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা বাড়ছে।
মিসরের শারম আল শেখে ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনটি সোমবার কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এখন পর্যন্ত গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী বা নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের বিষয়ে কোনও চুক্তি হয়নি। গাজায় এখনও অন্তত ২৩ জন জিম্মির মরদেহ পড়ে আছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন, হামাস যতদিন অস্ত্র জমা না দেবে ও গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না, ততদিন যুদ্ধ শেষ হতে পারে না। কিন্তু হামাস এই শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য সোমবার বলেছেন, হামাসকে সীমিত সময়ের জন্য গাজায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা শান্তি চায়, আর আমরা তাদের কিছু সময় দিয়েছি।
হামাসের এক নেতা মঙ্গলবার বলেছেন, গাজায় কোনও বিশৃঙ্খলা, লুটপাট বা মাদক চক্র সহ্য করা হবে না। যারা সহযোগী বা অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ ও ইসরায়েলি হামলায় দুর্বল হয়ে পড়লেও সংগঠনটি ধীরে ধীরে রাস্তায় ফিরছে। তারা ধ্বংসস্তূপ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পুনর্গঠনের রুট পরিষ্কার ও পানির পাইপ মেরামতে শত শত কর্মী নিয়োজিত করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস যোদ্ধাদের আক্রমণে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়, ২৫১ জনকে জিম্মা করা হয়। দুই বছরের ইসরায়েলি প্রতিশোধ অভিযানে গাজায় প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ২৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।