ঘুস নেওয়ার অভিযোগে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার 

ঘুস নেওয়ার অভিযোগে রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার 

যশোর: অবশেষে ঘুস গ্রহণের দায়ে গ্রেপ্তার হলেন যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার। এর আগে তার সহযোগী স্থানীয় এনজিও কর্মী হিসেবে পরিচিত হাসিবুর রহমানকে আটক করে দুদক।

এই টাকা তিনি শামীমা আক্তারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা শামীমা আক্তারকেও আটক করেন। মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়েরের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার শামীমা আক্তার দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ছয় নম্বর শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা। হাসিবুর রহমান স্থানীয়দের কাছে এনজিও কর্মী হিসেবে পরিচিত।  

দুদক জানায়, সোমবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে কাস্টম হাউজে অভিযানে গিয়ে দুদক কর্মকর্তারা এক ব্যক্তিকে (হাসিবুর রহমান) ঘুসের দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকাসহ আটক করেন। তিনি কাস্টমস হাউজের ছয় নম্বর শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের ঘুসের টাকা সংগ্রহকারী বলে দাবি করেছেন দুদক কর্মকর্তারা।  

হাসিবুর রহমান দুদকের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এই টাকা রাজস্ব কর্মকর্তার। এরপর দুদক কর্মকর্তারা শামীমা আক্তারকে সোমবার আটক করেন।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন বলেন, জব্দ টাকার নম্বর মিলিয়ে তালিকাবদ্ধ করতে রাত সাড়ে ৮টা বেজে যায়। এ কারণে শামীমা আক্তারকে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের জিম্মায় রেখে তারা ফিরে আসেন।  

সহকারী পরিচালক আল-আমীন বলেন, তারা কাস্টম হাউজ থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকের সামনে রাখা গাড়িতে ওঠেন। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কিছু মানুষ গাড়িটি আটকে রাখেন। এসব মানুষ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন কর্মকর্তারা।  

খবর পেয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর রাত সোয়া ৯টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ কাস্টম হাউজে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।

দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের বিরুদ্ধে ঘুস গ্রহণের মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠান। জব্দ টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

এসএইচ

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin