গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের দাবি

গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের দাবি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে যাঁদের বেওয়ারিশ হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছে তাঁদের মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মিলে এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই শহীদদের গণকবরের পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের গণকবরে থাকা শহীদদের পরিচয় শনাক্তের দাবি জানিয়ে আসছি। প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা করে তাঁদের পরিবারের কাছে মর্যাদার সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমাদের সন্তানের রক্তের ওপর গঠিত সরকারই যদি এভাবে শহীদদের অবহেলা করে, তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে, সেটি নিয়ে আমরা আশঙ্কায় আছি।’

জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বলেন, ‘এক বছর ধরে ১১৪টি পরিবার এখনো তাদের স্বজনদের কবর শনাক্ত করতে পারেনি। প্রতিনিয়ত তারা স্বজনদের শেষ চিহ্নটুকু খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের সহযোগিতা করছে না। উচ্চ আদালত থেকে কবর শনাক্ত করে পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে রায় দিলেও সরকার গড়িমসি করছে। আমরা অবিলম্বে এসব মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা আর কোনো টালবাহানা দেখতে চাই না।’

মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হন গাড়িচালক মাহিন মিয়া। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় ধরে মাহিন মিয়ার মরদেহ খুঁজে পাননি স্ত্রী জেসমিন আক্তার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৮ জুলাই আমার স্বামী মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু তাঁকে আর খুঁজে পাইনি। তাঁর লাশটাও দেখতে পাইনি। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, অনেকগুলো লাশ নাকি রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এখানে তাঁর কবর কোনটা, সেটি আজও জানতে পারিনি। আমার সন্তানকে তাঁর বাবার কবরটা পর্যন্ত দেখাতে পারিনি।’

যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে মারা যান পোশাক ব্যবসায়ী সোহেল রানা। কিন্তু আজও তাঁর মরদেহ খুঁজে পায়নি পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘এক বছর ধরে আমার ছেলের লাশের সন্ধান পাইনি। কবরটা কোথায় দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানতে পারিনি। আমাদের আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?’

Comments

0 total

Be the first to comment.

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে হাইকোর্টের চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলছে Prothomalo | বাংলাদেশ

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে হাইকোর্টের চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলছে

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতির মধ্যে ৪ বিচারপতির বিষয়ে...

Sep 13, 2025
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক Prothomalo | বাংলাদেশ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য...

Sep 12, 2025
দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়ির ঘটনা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Prothomalo | বাংলাদেশ

দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়ির ঘটনা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শারদীয় দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়িতে ‘সহিংস ঘটনা ঘটানো’ হয়েছে বলে...

Oct 01, 2025

More from this User

View all posts by admin