গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা জাতিসংঘের অনুমোদনের পরদিনই আবারও হামাসকে বিতাড়নের দাবি জানিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং অস্ত্র ত্যাগে রাজি হবে, হামাসের সেই সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা এবং ইচ্ছুকদের নিরাপদে দেশ ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া, হামাসকে গাজার শাসনে ভূমিকা রাখতে দেওয়া হবে না বলা হলেও, তাদের দল ভেঙে দেওয়া অথবা গাজা থেকে বিতাড়নের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুমোদনের পর নেতানিয়াহু একাধিক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান। এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং অন্যটিতে লেখেন, ইসরায়েলি সরকার মনে করে পরিকল্পনাটি শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, কারণ এতে গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং চরমপন্থা মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ইসরায়েল সব প্রতিবেশীর দিকে শান্তি ও সমৃদ্ধির হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। হামাস ও তার সমর্থকদের ওই অঞ্চল থেকে উচ্ছেদে তাদের সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
হামাসকে উচ্ছেদ বলতে নেতানিয়াহু কী বোঝাতে চেয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, গাজায় কোনও শাসনক্ষমতা না থাকা এবং সেখানে তাদের অস্তিত্ব বিলোপ করা।
নেতানিয়াহু গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হোয়াইট হাউজ সফরের সময় প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী ধাপ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। হামাসও পরিকল্পনার কিছু অংশের বিরোধিতা করেছে।
কূটনীতিকরা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, দুই পক্ষেরই কঠোর অবস্থানের কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষত এটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কার্যকর প্রয়োগ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। তবুও পরিকল্পনার প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বেশ শক্তিশালী।
জাতিসংঘে ভোটের আগে রবিবার নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন সমর্থিত এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার পথে সমর্থন প্রকাশ করায় তার ডানপন্থি জোটের উত্তেজনার পরও ইসরায়েল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রগঠনের বিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছে।
নেতানিয়াহু গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকারও বিরোধিতা করেন।