রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজ ও তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কহিনুর আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ধানমন্ডি জোনাল টিমের এসআই মো. এনামুল হাসান। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল ওয়াহাব আসামি আশরাফুলের বন্ধু ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ জরেজুল ইসলাম ওরফে জরেজের এবং আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া তার ‘প্রেমিকা’ শমীমা আক্তার ওরফে শামীমা ওরফে কহিনুরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।
এর আগে, শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে জরেজকে এর আগে করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। একই জেলার লাকসাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় শামীমাকে। পরদিন তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল ড্রাম থেকে খণ্ড-বিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২৬ টুকরো লাশের প্রথমে পরিচয় পাওয়া না গেলেও আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জানা যায়, লাশটি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আশরাফুল হকের।
এ ঘটনায় পরদিন শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বোন। এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ‘বন্ধু’ জরেজ নামে একজনকে ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে খোঁজার কথা বলেছিল পুলিশ।
শনিবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জরেজের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়।
শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব-৩ এর অধিনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “তাকে দিয়ে ‘প্রেমের ফাঁদে ফেলে’ আশরাফুলের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল জরেজের। তবে আশরাফুলকে ঢাকায় আনার পর টাকা আদায় না করে কেন খুন করা হল, সেটির ‘স্পষ্ট ধারণা’ পাওয়া যায়নি।”
এদিন দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জরেজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা আসলে একটা ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী।”