আগে গোল হজম করে শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে নেপালের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে বিরতির পর ঠিকই ঘুরে দাঁড়ান জামাল ভূঁইয়ারা। হামজা চৌধুরী দলের ত্রাতা। কিন্তু জোড়া গোল করে হামজার মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পরই স্বাগতিকদের সর্বনাশ। যোগ করা সময়ে নেপাল গোল করে হার এড়ায়। ম্যাচ শেষ হয় ২-২ স্কোরলাইনে।
কানাডা থেকে লিগের খেলা শেষে ঢাকায় ফিরে মাত্র একদিন জামাল ভূঁইয়াদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পেরেছিলেন শমিত সোম। নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের শুরুর একাদশে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে আগেই অনিশ্চয়তা ছিল। অনুমিতভাবেই এই মিডফিল্ডারকে বেঞ্চে রেখে হাভিয়ের কাবরেরা একাদশ সাজিয়েছেন।
শমিত না থাকলেও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন। হামজা চৌধুরী যথারীতি খেলেছেন শুরু থেকে। চোটের কারণে ছিলেন না শেখ মোরসালিনও। হংকং ম্যাচ থেকে পরিবর্তন হয়েছে আরও দুটি।
জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আক্রমণাত্মক ছকে শুরু থেকে নেপালকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের সীমানায় বেশি সময় ধরে খেলা চলেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছিল না। গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। জামাল-সাদরা ডেডবল থেকে একাধিক সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তাতে অবশ্য গোলপিকার কিরণ চেমজংকে ভয় ধরানো যায়নি। হামজাকে কখনও রক্ষণ আগলে খেলতে দেখা গেছে, আবার সুযোগ বুঝে মধ্যমাঠে ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছেন। তবে ডিবক্স কিংবা আশপাশে হামজাকে কড়া মার্কিংয়ে রেখেছিলেন নেপালের ফুটবলাররা।
বল দখল কিংবা আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ বলার মতো সুযোগ তৈরি করেছে ২৬ মিনিটে। সোহেল রানার পাসে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ৬ গজের মধ্যে শট নেওয়ার আগেই গোলকিপার কিরণ চেমজং তালুবন্দি করেন। খেলার ধারার বিপরীতে নেপাল গোল পেয়ে যায়। ২৯ মিনিটে শুমিত শ্রেষ্ঠা বক্সে ঢুকে বুদ্ধিদ্বীপ্ত এক কাটব্যাক করেন। রোহিত চাঁদ বক্সের বাইরে থেকে দৌড়ে এসে অরক্ষিত অবস্থায় নিচু শটে মিতুল মারমাকে হারান। মিতুল শুয়ে পড়েও গোল বাঁচাতে পারেননি। এর আগে সোহেল রানাসহ অন্যরাও কিছু করতে পারেননি। এক গোলে পিছিয়ে থেকে বাংলাদেশের আক্রমণে ধার বাড়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল আসছিল না। পরের মিনিটে ফাহিমের শট গোলকিপার তালুবন্দি করেন।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw69160c0367c7d" ) );
৩৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রসে ফাহিম ৬ গজের প্রান্তে গোলকিপারকে সামনে পেয়ে লক্ষ্যে মারলেও এক ডিফেন্ডার পা বাড়িয়ে দিয়ে সুযোগ নস্যাৎ করে দেন। ৪৩ মিনিটে রাকিবের ক্রসে ফাহিমের হেড সোজা কিরণের তালুতে জমা হয়। বাংলাদেশ দলকে বিরতিতে যেতে হয় ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে। ড্রেসিংরুম থেকে ফিরে এসে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ছিল।
বিরতি থেকে এসে বাংলাদেশ দলে মোহাম্মদ সোহেল রানার জায়গায় শমিত সোম একাদশে আসেন। ৪৬ মিনিটে বাংলাদেশ সমতায় ফিরে। জামালের দারুণ এক ভলি থেকে হামজা চৌধুরী বক্সের ভিতরে ব্যাকভলিতে জাল কাঁপান। সঙ্গে থাকা ডিফেন্ডারদের কিছু করার সুযোগ দেননি লেস্টার সিটি তারকা। মাঠে আসা হাজারও সমর্থক উচ্ছ্বাসে মাতেন।
৪৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাংলাদেশ ব্যবধান বাড়ায়। রাকিব হোসেনকে ফাউল করেন নেপালের এক ডিফেন্ডার। শ্রীলঙ্কার রেফারি পেনাল্টির বাঁশি দেন। স্পট কিক থেকে হামজা চৌধুরী সহজেই গোলকিপারের বিপরীত দিক দিয়ে আবারও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান।
৬৩ মিনিটে দীনেশ হেনজানের ডান দিক থেকে সরাসরি ক্রস-বার ছুঁয়ে অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি। মিতুল মারমা লাফিয়ে উঠে বলের নাগাল পাননি। ৬৯ মিনিটে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়। শাহরিয়ার ইমন, মোহাম্মদ হৃদয় ও শাকিল আহাদ তপু নামেন। ফাহিম, সোহেল রানা ও জায়ানের জায়গা হয় টেন্টে। ৭৯ মিনিটে হামজা চৌধুরী মাঠ ছেড়ে গেলে কিউবা মিচেলের অভিষেক হয়। শেষদিকে জামালের জায়গায় মাঠে নামেন কাজেম শাহও। তাতে করে বাংলাদেশ বরং চাপে পড়ে। যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে অনন্ত তামাংয়ের ব্যাকহিল মিতুলের শরীরে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। তাতেই জয় বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। পাঁচ বছর পর নেপালকে হারানোর সুযোগ মিসে মন খারাপ করে স্টেডিয়াম ছাড়েন হাজারও দর্শক।