ইসরায়েলভিত্তিক সাইবার গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও অননুমোদিত নজরদারি কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল বিচারক ফিলিস হ্যামিলটন এই রায় দেন। একইসঙ্গে মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের দায়ের করা মামলায় এনএসও গ্রুপের ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ১৬৭ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৪ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিচারক রায়ে বলেন, এনএসও গ্রুপের কর্মকাণ্ড হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ‘গুরুতর ও অনির্বচনীয় ক্ষতির’ মুখে ফেলেছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
এনএসও গ্রুপের দাবি, তাদের তৈরি পেগাসাস নামের স্পাইওয়্যার শুধুমাত্র সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের উদ্দেশ্যে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপের অভিযোগ, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০১৯ সালে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ফোনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা হয়েছিল।
রায়ের পর হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান উইল ক্যাথকার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আজকের রায়ে স্পাইওয়্যার নির্মাতা এনএসও গ্রুপকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হলো— তারা আর কখনো হোয়াটসঅ্যাপ বা আমাদের বৈশ্বিক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে না। ছয় বছরের লড়াইয়ের পর এটি ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
মেটার নির্বাহীরাও এই সিদ্ধান্তকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, এনএসও গ্রুপ এক বিবৃতিতে আদালতের সিদ্ধান্তকে আংশিকভাবে স্বাগত জানিয়ে জানায়, ক্ষতিপূরণের অঙ্কে ৯৭ শতাংশ হ্রাস ‘ন্যায্য ও ইতিবাচক অগ্রগতি’।
তারা আরও দাবি করে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা তাদের সরকারি গ্রাহকদের ওপর প্রযোজ্য নয় এবং ‘জননিরাপত্তা রক্ষায়’ তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা