গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত একশ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে গাজার চিকিৎসা সূত্র। নিহতের মধ্যে ৩৫ জনই শিশু। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজায় হামলা চালানোর পরও ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সমর্থিত যে যুদ্ধবিরতি রয়েছে তা ঝুঁকির মধ্যে নেই। যদিও, একই সময়ে, ইসরায়েলের বিমান হামলা গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের আঘাতে কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় গাজা অঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় পাঁচজন নিহত হয়। গাজা শহরের সাবরা এলাকায় একটি ভবনে চারজন নিহত এবং খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় পাঁচজন মারা গেছে।
সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যেমনটা আমি বুঝছি, তারা এক ইসরায়েলি সৈন্যকে হত্যা করেছে। সুতরাং ইসরায়েলিরা পাল্টা আঘাত করেছে এবং তাদের পাল্টা আঘাত করা উচিত। যখন এমন কিছু ঘটে, তারা পাল্টা আঘাত করবেই।’
ট্রাম্প বলেছেন, ‘কিছুই যুদ্ধবিরতিকে বিপন্ন করবে না। আপনাদের বুঝতে হবে, হামাস মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির এক ক্ষুদ্র অংশ, তাদের ভদ্র আচরণ করতে হবে।’
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বুধবার ওই সৈন্যের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
তবে হামলার বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গেই কোনও মন্তব্য করেনি তারা। এর আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তিনি তাৎক্ষণিক ‘শক্তিশালী হামলার’ নির্দেশ দিয়েছেন।
এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। কারণ তারা সেই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাকে আক্রমণ করেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হলুদ রেখা বা নির্ধারিত সীমারেখার লঙ্ঘন।
তবে রাফাহ শহরে ইসরায়েলি সেনা হত্যার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।