ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আল-গামারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক সামরিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে হুথিরা ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
হুথিদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেনারেল গামারি ইসরায়েলি শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মানজনক যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তার কয়েকজন সহযোদ্ধা ও ১৩ বছর বয়সী পুত্রসহ নিহত হন। তবে হামলার তারিখ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি হামলায় তার মৃত্যুর খবরটি এমন সময়ে এলো যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই যুদ্ধ চলাকালে হুথিরা বারবার ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জানিয়েছিল, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথিদের জেনারেল স্টাফ সদর দফতরসহ কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক্স-এ লিখেছেন, গামারি আসলে আগস্টের শেষ দিকে এক বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। ওই হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার অর্ধেক সদস্যও নিহত হন।
হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শত্রুর সঙ্গে আমাদের সংঘাত শেষ হয়নি। জায়নবাদী শত্রু তার অপরাধের যথাযথ প্রতিদান পাবে।
ইরানের নেতৃত্বাধীন কথিত প্রতিরোধ অক্ষের অংশ হিসেবে হুথিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত রয়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা একাধিকবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড ও মার্কিন নৌবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা ৭৫৮টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ব্যবহৃত হয়েছে এক হাজার ৮৩৫টি অস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।