ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রী ফারহানা সাঈদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এনবিআরের অধীন গোয়েন্দা ইউনিটের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রী ফারহানা সাঈদ বিভিন্ন উৎস থেকে আয় গোপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে এফডিআর, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং দোকান থেকে প্রাপ্ত আয়। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় ফাঁকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কমিশনার।
এর আগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সাঈদ খোকন, তার মা শাহানা হানিফ, স্ত্রী ফারহানা সাঈদ ও আত্মীয় জাবেদ আহমেদের নামে থাকা ৭৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার তাদের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট।
অপরদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের আরেক আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সাঈদ খোকন, তার স্ত্রী ও মায়ের নামে থাকা তিনটি পারপিচ্যুয়াল বন্ড হিসাবের লেনদেনও স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। এসব বন্ডে মোট ৯০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুদকের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে সাঈদ খোকনের নামে থাকা গুলশানের ১৪ তলা বাড়ি, বনানীর দুটি বাড়ি এবং তার মা শাহানা হানিফের নামে থাকা বারিধারার বাড়ি ও জমি জব্দের নির্দেশও দেন আদালত।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেয়র থাকাকালীন সময়ে তিনি পদ ও রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার করে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।
তদন্ত সংস্থাগুলোর মতে, সিটি ব্যাংক পিএলসির পারপিচ্যুয়াল বন্ডে করা বিনিয়োগসহ অন্যান্য সম্পদের উৎস যাচাই করতে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।