হবিগঞ্জ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। একদিকে বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়, অন্যদিকে জামায়াতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত।
নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে রয়েছে আলোচনায়। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সিলেট মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলীকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।
প্রার্থী চূড়ান্তের পর মাঠে উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছেন তিনি। নিয়মিত উঠান বৈঠক ও স্থানীয় ইস্যুতে সক্রিয় থেকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ গড়ছেন। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত নয়জন। দৌড়ে আছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, শিকাগো বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক নেতা তালহা চৌধুরী, বিএনপি নেতা শেখ মহি উদ্দিন, মখলিছুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন। মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে শেখ সুজাত মিয়া বলেন, আমি ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়েছি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছি। আশা করি, দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। ছাবির আহমদ চৌধুরীর আত্মবিশ্বাস, প্রতিকূল সময়েও রাজনীতি করেছি, হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে দুইবার মেয়র হয়েছি। মামলা-হামলা মোকাবিলা করে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আছি। স্থানীয় নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিতে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে ভোটের মাঠে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন শেখ সুজাত ও ছাবির আহমদ। জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপিও ভোটের মাঠে নামার তোড়জোড় চালাচ্ছে। দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছেন জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী পলাশ মাহমুদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি, আরিফ তালুকদার ও তুষার পাঠান। এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহবুবুল বারী চৌধুরী বলেন, আমরা এখনই প্রার্থী নিয়ে ভাবছি না। দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাই করব। তবে দলের নেতাদের অনেকেই নতুন মুখ হলেও আন্দোলনের চেতনা আমাদের শক্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে দুটি ভাগ হয়েছে। সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত। তাদের কোন্দলের ফলে সাতবার পেছানো হয় কাউন্সিল। পরে শেফু গ্রুপের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।
এ আসনে খেলাফত মজলিস থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জাকী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকেও একক প্রার্থী ঠিক হয়েছে। তিনি হলেন জেলা জমিয়তের সেক্রেটারি মুফতি সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ আসনে তাদের প্রার্থী করেছে মুফতি মাওলানা তাজুল ইসলামকে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৬, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন বলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির তৃণমূলের অনিশ্চয়তা, জামায়াতের সংগঠিত প্রস্তুতি আর এনসিপির ‘আন্দোলনের স্পিরিট’- এ তিন মেরুতে দাঁড়িয়ে আছে ভোটের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন, আর কে জিতবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় কৌশল ও মাঠের লড়াইয়ের ওপর। এসআই