সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিসহ দুইজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো অপর আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি মোজাম্মল হক।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বুধবার (১ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।
৬ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে হাতে হ্যান্ডকাপ, মাথায় হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে চারটার দিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। আদালত চত্বরে এদিন মুক্তি ও মোজাম্মেলের পক্ষে অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান’ দিতে দেখা গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আব্দুস সালাম দুই আসামিকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম ও সোহেল রানা দুই আসামির পক্ষে জামিন শুনানি করেন।
জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কাইয়ুম হোসেন নয়ন।
এর আগে গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধ আইনের মামলায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ দুজনের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিকেতনের একটি গাড়ির শো রুম থেকে কবিরুল হক মুক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে গুলশানের ডা. ফজলে রাব্বী পার্কের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যানার হাতে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করাসহ তাদের কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে উস্কানিমূলক স্লোগানসহ রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে পালানোর চেষ্টাকালে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মোবাইল ফোনগুলোতে ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামে বিভিন্নি গ্রুপ খুলে আসামিরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দেখতে পায় পুলিশ।
এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মাহাবুব হোসাইন ওইদিন সন্ত্রাসবিরোধ আইনে মামলা করেন।