রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার জেনেভা ক্যাম্পে ককটেল বিস্ফোরণে জাহিদ (২০) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনার মামলায় চার জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলো– মো. সাজু (৩২), রুস্তুম (৩৫), মো. আরমান (৩৮), মো. সাজু ওরফে সাঞ্জু ওরফে সাব্বির (২৪)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আজ আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আজ শুনানি হয়নি। বিচারক চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে এ আসামিদের মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে জানেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ব্যক্তিদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদসহ অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও মমলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তসহ গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে। সে জন্য সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।
জেনেভা ক্যাম্পে বিস্ফোরণে যুবক নিহতের ঘটনায় শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ২৭ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বোন মদিনা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় মোহাম্মদপুর থানার জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ৫০-৬০ জন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাদি ও আশেপাশের লোকজন বাসা থেকে বের হন। এক পর্যায়ে বালতির ভেতর থেকে মো. চুয়া সেলিম ককটেল বের করে সাজ্জাদ গোলাপীর হাতে দিলে সে জাহিদকে লক্ষ্য করে ককটেল মারে। সেটি বিস্ফোরিত হলে জাহিদের মাথার খুলি ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।