দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র অঙ্গন শোকে স্তব্ধ। জনপ্রিয় নারী নির্মাতা শিন সাং-হুনের মৃত্যুর খবর সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ঘটনাটি ঘটে কয়েক মাস আগেই। স্থানীয় গণমাধ্যম ওএসইএন জানিয়েছে, শিন সাং-হুনের মৃত্যু হয়েছিল গত মে মাসে। তবে বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর পেছনে কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রমাণ বা আত্মহত্যার নোট পাওয়া যায়নি। এমনকি তার কোনও পরিবারের সদস্যকেও পাওয়া যায়নি।
এক বন্ধু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ শিনকে তার নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পায়।
শিন সাং-হুনের জীবনের শুরু থেকেই ছিল নানা প্রতিকূলতা। তিনি জন্মেছিলেন একটি অনাথ আশ্রমে, পরে তাকে দত্তক নেওয়া হয়। কিন্তু তার দত্তক মায়ের জুয়া খেলার আসক্তি পরিবারে বিপুল ঋণ ডেকে আনে। জানা যায়, শিন নিজেই প্রায় ১৬ কোটি ওয়ন (প্রায় এক কোটি টাকা) ঋণ পরিশোধ করেন এবং পরবর্তীতে আইনগতভাবে দত্তক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটান।
একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জীবনের এই কঠিন অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন। তবে কোনও ক্ষোভ প্রকাশ না করে বরং তা থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়েই বেঁচেছিলেন।
শিন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পেশাগত অনিশ্চয়তা নিয়েও খোলাখুলি বলেছিলেন। ২০২২ সালের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যদি নিয়মিত বাণিজ্যিক ছবি না বানাতে পারো, তাহলে পরিচালক হিসেবে টিকে থাকা কঠিন। স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের পরিচালকদের অবস্থা আরও খারাপ। তারা কেবল মুখ খুলে না। প্রতিদিনই একেকটা যুদ্ধের মতো লাগে।’
চলচ্চিত্রের কাজ না থাকলে তিনি খণ্ডকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, যেমন পার্সেল ওঠানো-নামানোর কাজ। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন ওই কাজ করার পর বুঝেছিলাম, এ কত কঠিন! শরীর ভেঙে যাচ্ছিল। ফিরে এসে ভেবেছিলাম, হয়তো পরিচালক হিসেবে এগোনো উচিত না। তবু আমি হাল ছাড়িনি।’
শিন সাং-হুনের বিনোদনজগতে পথচলা শুরু হয় ২০০২ সালে গায়ক হিসেবে। এরপর তিনি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোনিবেশ করেন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68ff401d8b53f" ) ); ২০২২ সালে তার নির্মিত ‘জাজাংমিয়ন থ্যাংক ইউ’ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়। ছবিটি ৭ম হলিউড ব্লুবার্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পরিচালক ও সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে, পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ৮০টিরও বেশি পুরস্কার অর্জন করে।
পরবর্তী সময়ে তার নির্মিত ‘আন্ডারঅ্যাজ’ (২০২৪) ও ‘গডস চয়েস’ (২০২৫) আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোতে প্রদর্শিত হয়। মৃত্যুর সময় তিনি ‘আন্ডারঅ্যাজ ২’ চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা ২০২৫ সালের শেষদিকে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল।
শিন সাং-হুনের মৃত্যু শুধু কোরিয়ান চলচ্চিত্র নয়, পুরো এশীয় সিনেমা অঙ্গনের জন্যই এক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।