জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলো এখন কী করতে চায়?

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলো এখন কী করতে চায়?

জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল।

তবে এখনও করেনি সই জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) আরও ৫টি দল।

অন্য চারটি দলের মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)।

সনদে সই না করা দলগুলোর যুক্তি কী? আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সুযোগ থাকা সময়ের মধ্যে তারা সই করবে কি? বিশেষ করে সই হয়ে যাওয়ার পর এখন কী করবেন এসব দলের শীর্ষ নেতারা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নানা কথা ঘুরপাক হচ্ছে।

তবে সোমবার (২০ অক্টোবর) সই না করা চারটি বাম দলের প্রতিনিধিদের আবারও সংসদ ভবনের এলডি হলে ডেকেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ‘‘কমিশন আমাদেরকে ডেকেছে। আমরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা কী বলতে চায়, সেটা শুনতে যাবো। তবে সই করা না করার বিষয়ে আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই অনড়।’’

অপরদিকে জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তিসহ তিন দফা দাবি আদায়ে চলতি সপ্তাহেই রাজধানীতে নানা কর্মসূচি পালন করবে সনদে সই না করা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্যে একাধিক সমন্বয় সভা ও ঢাকায় বড় সমাবেশের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। উদ্দেশ্য সরকারকে চাপে রেখে আইনি স্বীকৃতিসহ নিজেদের দাবি আদায় করা। শর্ত পূরণ হলে কমিশনের মেয়াদের মধ্যেই সনদে সই করতে চায় দলটি।

বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটি জানিয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, ‘‘সরকার আমাদের কথা রাখেনি, তাই সেদিন আমরা সই করিনি। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। হয়তো অচিরেই আবারও দলের প্রতিনিধিদের ডাকবে।’’

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f51a1151a3c" ) );

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেও সেদিন সনদে সই করেনি গণফোরাম। তবে রবিবার (১৯ অক্টোবর) সই করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে সংবিধানের ১৫০-এর (২) অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এবং প্রক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্টস যাতে রাখা হয়—সে দাবি করেছিল দলটি। তখন এর নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তারা স্বাক্ষর করেনি। রবিবার স্বাক্ষরের পর দলটির নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, ঐকমত্য কমিশন বলেছে, তারা ১৫০-এর (২) অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বাতিল না করে ৭ নম্বর তফসিল বহাল রাখবে। এ জন্যই তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলে দিয়েছেন, সনদের কোনও কিছু পরিবর্তন করা আর সম্ভব নয়। তাই আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাক্ষর করার সুযোগ থাকলেও এ প্রক্রিয়ায় আমাদের চার বাম দলের যুক্ত হওয়ারও সুযোগ নেই।’’

প্রিন্স বলেন, ‘‘কারণ কমিশনের বৈঠকের শুরু থেকেই আমরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু সংবিধানের মূলনীতিতে হাত না দিতে বারবার কমিশনকে বলার পরও তারা কথা রাখেনি। তাই আমরা ৩১ জুলাই বৈঠক বর্জন করেই আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছি। এছাড়া সনদের পটভূমিতে অসঙ্গতি, আইনের আশ্রয়ের সুযোগ না রাখাসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের অবস্থান আগেরটাই থাকবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের উচিত দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা। কারণ এ সনদ নিয়ে মানুষের তেমন আগ্রহ নেই।’’

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যেহেতু ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনের মেয়াদ আছে, তাই তিনটি শর্ত পূরণ হলে আমরা অবশ্যই স্বাক্ষর করবো।’’ এই সময়ের মধ্যে কমিশনের অন্যান্য প্রক্রিয়ায় তার দল অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin