জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করে সেইফ এক্সিট নেই: সারজিস আলম

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করে সেইফ এক্সিট নেই: সারজিস আলম

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করে কারো সেইফ এক্সিট নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এনসিপির নেত্রকোনা জেলার সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এ কথা জানান তিনি।

শহরের বড় বাজার এলাকায় শালথী রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, সেইফ এক্সিটের কথা সব উপদেষ্টাকে বলা হয়নি। কিছু কিছু উপদেষ্টার কথায় আচরণে মনে হচ্ছে তারা যেনতেন নির্বাচন দিয়ে সেইফ এক্সিট চাচ্ছেন। এটা হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের স্বার্থে এনসিপি এককভাবেও আগামী নির্বাচনে যেতে পারে। আবার কোনো অ্যালায়েন্সের মধ্য দিয়েও নির্বাচনে যেতে পারে। তবে যদি সেটা অ্যালায়েন্স হয়, তাহলে এনসিপি নামেই নির্বাচন করবে। আমরা প্রত্যাশা করছি- শাপলা প্রতীকেই নির্বাচন করবো।

শাপলা প্রতীক নিয়ে এনসিপি নেতা বলেন, আমরা বাংলাদেশের আইন অঙ্গন থেকে শুরু করে যারা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আছেন- সচিব, নির্বাচন কমিশনসহ সবার সঙ্গে কথা বলেছি। শাপলা প্রতীক দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। যেহেতু আইনগত বাধা নেই, তাই আমরা প্রত্যাশা করি- আমাদের সঙ্গে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এমন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে স্বেচ্ছাচারমূলক আচরণ করবে না। আমরা প্রত্যাশা করি, আমরা শাপলা প্রতীক পাবো এবং সেই প্রতীকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে এনসিপির সম্মতি আছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়নের ভিত্তি ও নিশ্চয়তা পেলে এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দৃশ্যমান হলে এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনে তার দলের আপত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, একটি কনফারেন্সে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিজেই আমাদের কাছে বলেছিলেন- শেখ হাসিনাসহ এই খুনগুলোর সঙ্গে যারা সরাসরি নির্দেশদাতা ও সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের বিচারের রায় আগামী ডিসেম্বরে কার্যকর হবে। আমরা সেটার অপেক্ষায় আছি। এ রকম আস্থা যদি আমরা পাই, তাহলে আমরা মনে করি- এই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হওয়াতে কোনো বাধা থাকতে পারে না।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবির বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, এনসিপি মনে করে যে- বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় উচ্চকক্ষে পিআর হতে পারে এবং এটা জানিয়েছিল ঐকমত্য কমিশন। আমরা মনে করি, উচ্চকক্ষে যদি পিআর বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সফলতার মুখ দেখে এবং বাস্তবায়ন হয়, আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে নিম্নকক্ষে পিআর হবে কী-না। এ মুহূর্তে এনসিপির স্পষ্ট অবস্থান, আগামী নির্বাচনে আমরা উচ্চকক্ষে পিআরের পক্ষে এবং এ মুহূর্তে নিম্নকক্ষে পিআরের পক্ষে আমরা নই।

জেলা এনসিপির আয়োজনে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম। উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ ও কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান, জুলাই ওরিয়র্সের জেলা কমিটির আহ্বায়ক তোফায়েল আহমদ, খালিয়াজুরি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার নেতাদের সভায় অংশ নেন।

এইচ এম কামাল/এনএইচআর/জেআইএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin