রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘জুলাই সনদ’ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় পৌনে একঘণ্টা সংঘর্ষের পর তাদের সরিয়ে দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ২টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা জুলাই যোদ্ধাদের সড়কের দুপাশে—খামারবাড়ি, ফার্মগেট ও ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের দিকে সরিয়ে দেয়।
এ সময় উত্তেজিত ‘জুলাই যোদ্ধা’রা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের পাশাপাশি ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে সংসদ ভবনের বাউন্ডারি পেরিয়ে কয়েকশ ‘জুলাই যোদ্ধা’ মূল অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে অতিথিদের নির্ধারিত আসনে বসে পড়ে। পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিতে গেলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা সংসদ ভবনের ২ ও ৩ নম্বর গেট খুলে বাইরে অবস্থানরত আরও লোকজনকে ভেতরে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় তারা মূল মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং কিছু স্থানে অগ্নিসংযোগ ঘটায়। পাশাপাশি পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প ও তাঁবুতেও আগুন দেয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলে পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ‘জুলাই যোদ্ধা’দের একাংশকে খামারবাড়ি ও ফার্মগেটের দিকে এবং অপর অংশকে আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭ ও ৩২ নম্বরের দিকে ধাওয়া করে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জুমার নামাজের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। বিকাল ৩টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ সময় এখনও আসাদগেট ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তালিবুর রহমান জানান, ‘জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’