ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দাবি করেছেন, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী কারাকাসে মার্কিন দূতাবাসে একটি ‘সাজানো হামলার’ পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে। তিনি দাবি করেছেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার উত্তেজনা আরও বাড়ানো। এমন এক সময় তিনি এই দাবি করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার দেশটির উপকূলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, আমাদের কাছে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ছিল, একটি দেশীয় এবং একটি আন্তর্জাতিক। তারা জানিয়েছিল, স্থানীয় দক্ষিণপন্থি উগ্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে বিস্ফোরক বসানোর পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন, এই তথ্য পাওয়ার পর আমরা দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করি দূতাবাসের আশপাশে। দুই সূত্রই একমত ছিল যে, একটি স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দূতাবাসে বোমা স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে।
মাদুরো দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল হামলার দায় ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু করা। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার পেছনে থাকা ব্যক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকের নাম আমরা শিগগিরই প্রকাশ করব।
২০১৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাকাস দূতাবাস বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কেবল নিরাপত্তা ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে কর্মরত আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন খবর প্রকাশ হয়েছে। রিচার্ড গ্রেনেল নামে বিশেষ দূতকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কারাকাস সরকারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করতে।
এক মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই নির্দেশ দেন। তবে ক্যারিবীয় সাগরে মাদকবাহী ভেনেজুয়েলান জাহাজ লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানকে দেশটির ভেতরে হামলার দ্বিতীয় ধাপে উন্নীত করা হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বর্ধিত সামরিক ও গোপন অভিযান শুরু করেছে। এতে সিআইএ-কে আরও বিস্তৃত হত্যা ও গুপ্তচরবৃত্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যারিবীয় সাগরে নারকো-সন্ত্রাসীদের একটি নৌকা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনীর এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযানকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযান বলে আখ্যা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, ওয়াশিংটনের এই সামরিক তৎপরতা ভেনেজুয়েলায় শাসন পরিবর্তনের প্রস্তুতির অংশ।