ড্রিংকের নামের সঙ্গে বোবা শুনে জেনজিরা অবাক না হলেও আরেকটু পেছনের সময়ের যারা, তারা একটু বিস্মিত হবেন বৈকি। ভ্রু কুঁচকে ভাববেন- পানীয়ের নাম আবার বোবা কেন? এটা খেলে কী বোবা হয়ে যাব? কিংবা, এটা কি এতই মজা যে কথা না বলে মুখ বুজে বোবার মতো পান করতে থাকবো?
বোবা ড্রিংক বা বাবল টি খুব জনপ্রিয় এক ধরনের তাইওয়ানিজ পানীয়— যেখানে দুধ, চা (বা জুস), চিনি আর টেপিয়োকা মুক্তো (boba pearls) ব্যবহার হয়। সে এক ব্যাপার বটে। এর স্বাদ এত মিষ্টি এবং এটা দেখতে এত দারুণ, জিভে জল এসে যাবে। এটা বাসাতে বানিয়ে যেমন খেতে পারেন, তেমন জেনে রাখা ভালো কাদের আপনি এই ড্রিংক পান করতে উৎসাহিত বা অনুৎসাহিত করবেন।
উপকরণ
(২ গ্লাসের জন্য)
১. টেপিয়োকা পার্ল (Boba pearls)– আধাকাপ
২. কালো চা পাতা/গ্রিন টি– ২ চা চামচ
৩. দুধ (ফ্রেশ বা ফ্রেশ মিল্ক)– ১ কাপ
৪. চিনি/মধু/ব্রাউন সুগার সিরাপ– ২–৩ টেবিল চামচ (রুচি অনুযায়ী)
৫. বরফ কিউব– পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রণালী
বোবা পার্লটাকে আগে রান্না করতে হবে। ১ কাপ পানি শুরুতে ফুটিয়ে নিন। তাতে যে আধাকাপ বোবা পার্ল নিয়েছেন সেটা দিন। মাঝারি আঁচে ২০–২৫ মিনিট সেদ্ধ করুন (নরম ও চিবানো যাবে এমন অবস্থায় আনতে)। আঁচ বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। পানি ছেঁকে ফেলে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এবার ১ টেবিল চামচ ব্রাউন সুগার বা মধু মিশিয়ে রাখুন, যাতে পার্লগুলো একে অপরের সঙ্গে না লেগে যায় এবং মিষ্টি স্বাদ পায়।
চা এর বেস বানানোর জন্য এক কাপ গরম পানিতে চা পাতা দিন, ৩–৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে নিন এবং ঠাণ্ডা হতে দিন। আপনার সব উপকরণ বানানো শেষ হলে একটা বড় গ্লাস নিন এবং গ্লাসে কিছু বোবা পার্ল দিন। বরফ দিন। এর ওপর চা ঢালুন। এরপর দুধ ও সিরাপ (চিনি/মধু) মিশিয়ে দিন। ভালোভাবে নেড়ে দিন বা শেকারে ঝাঁকিয়ে নিন। বড় স্ট্র দিয়ে পরিবেশন করুন!
শুধু দুধ দিয়ে না করে আরও নানা ভ্যারিয়েশন আনতে পারেন। আপনি ফ্লেভার মিল্ক টি ব্যবহার করে ভ্যানিলা, চকোলেট, ম্যাচা, ক্যারামেল বা স্ট্রবেরি সিরাপ দিন।
দুধের বদলে জুস (যেমন ম্যাঙ্গো, লিচু বা প্যাশন ফ্রুট) ব্যবহার করুন। কিউব বরফ ব্যবহার না করে বরফসহ ব্লেন্ডারে দিয়ে স্মুদি টাইপ বানিয়ে নিতে পারেন।
উপকারিতা ও সতর্কতা
এই ড্রিংকটাতে চা থাকায় সেটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হৃদযন্ত্র ও ত্বকের জন্য ভালো। যেহেতু দুধ ব্যবহার করা হয়েছে সেহেতু ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ডি সরবরাহ করবে। ফল ভিত্তিক ফ্লেভার থাকলে কিছুটা ভিটামিন থাকতে পারে। মনে রাখবেন, ট্যাপিওকা পার্ল মূলত শর্করা, এতে পুষ্টিগুণ কম, তবে ক্যালরি অনেক। এই ড্রিংকে চিনি ও সিরাপ অতিরিক্ত থাকে বলে প্রতি কাপ বোবা ড্রিংকে গড়ে ৩০০-৫০০ ক্যালরি থাকতে পারে। যা ওজন বাড়াতে সহায়ক আর সব মিষ্টি জাতীয় খাবারের মতোই এটার ক্ষেত্রও নিয়মিত গ্রহণে ডায়াবেটিক রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে।