চশমার বাড়তি ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে কিংবা চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করে থাকেন অনেকে। কিন্তু এ লেন্স ব্যবহারে নানা নিয়ম মানতে হয়। না হলে চোখে ইনফেকশন, লালচে ভাব, এমনকি দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। ফলে কিনবেন কোথা থেকে, যত্ন নিবেন কীভাবে সবকিছুতেই বাড়তি সতর্কতা দরকার। হাজার হোক চোখ ভীষণ সংবেদনশীল।
কী করবেন কী করবেন না
-লেন্স লাগানোর আগে ও খুলে ফেলার আগে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন। নখ লম্বা হলে কেটে ফেলুন, নখে ময়লা থাকলে লেন্স ছিঁড়ে যেতে পারে। লেন্স সলিউশন ছাড়া কখনোই ধোবেন না—ট্যাপ ওয়াটার বা লালা ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
-নির্দিষ্ট সময়ের বেশি লেন্স চোখে রাখবেন না। রাতে ঘুমানোর সময় লেন্স খুলে রাখবেন। মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স বা সলিউশন ব্যবহার করবেন না।
-প্রতিবার ব্যবহারের পর কেস খালি করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। ৩ মাস পরপর লেন্স কেস পরিবর্তন করুন। লেন্স সলিউশন বারবার ব্যবহার করবেন না—প্রতিবার নতুন সলিউশন নিন।
বিশেষ সতর্কতা
লেন্স ব্যবহারের ফলে চোখ লাল হলে, ব্যথা করলে বা ঝাপসা দেখলে লেন্স খুলে ফেলুন এবং প্রয়োজনে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চোখে ধুলো/ধোঁয়া/কেমিক্যাল ঢুকলে সাথে সাথে লেন্স খুলে পরিষ্কার করুন। সাঁতার বা শাওয়ার নেওয়ার সময় লেন্স ব্যবহার করবেন না। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4a9f5e8585" ) ); ভালো লেন্স চিনবেন কী করে
ভালো লেন্স ব্যবহার করলে শুরুর কয়েক মিনিট সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, কিন্তু পরে চোখ শুকনো বা জ্বালাপোড়া করবে না। লেন্সে কোনও দাগ, ফাটল বা আঁচড় থাকবে না। সমানভাবে বাঁকানো থাকবে, এক পাশে মোটা আরেক পাশে পাতলা দেখাবে না। সলিউশনে ভরা এয়ারটাইট ব্লিস্টার/বটলে সিল করা থাকবে। রেজিস্টার্ড অপটিশিয়ান বা ডাক্তার প্রেসক্রিপশন ছাড়া লেন্স কিনবেন না।
ফ্যাশনে কন্টাক্ট লেন্স
শুধু দৃষ্টি ঠিক করার জন্য নয়, অনেক সময় সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার হয় লেন্স। এটাকে বলা হয় কসমেটিক লেন্স বা কালার্ড কন্টাক্ট লেন্স। চোখের রঙ পরিবর্তনের জন্য বাদামী, নীল, সবুজ, হ্যাজেল, গ্রে সহ নানা রঙের লেন্স পাওয়া যায়। অনেকে ফ্যাশন বা বিশেষ অনুষ্ঠানে পরেন। অনেক সময় ব্রাইডাল মেকআপে চোখকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য এটি ব্যবহারের চল আছে। মডেলিং, ফটোশুট বা স্টেজ পারফরম্যান্সে চোখকে হাইলাইট করার জন্য। সাজসজ্জার জন্য হলেও কখনোই রাস্তার দোকান বা অননুমোদিত জায়গা থেকে কিনবেন না। কেবল নামকরা ব্র্যান্ডের, নিরাপদ কসমেটিক লেন্স ব্যবহার করুন। মেয়াদোত্তীর্ণ বা শেয়ার করে লেন্স ব্যবহার করা যাবে না।