‘ক্রীড়াঙ্গনে নারী খেলোয়াড়রা নিরাপদ নয়’

‘ক্রীড়াঙ্গনে নারী খেলোয়াড়রা নিরাপদ নয়’

ক্রিকেটার জাহানারা আলম যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলার পর থেকে ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে অনেকেই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তবে এটা শুধু জাহানারার বেলাতেই হয়েছে তা কিন্তু নয়। অনেকেই নানানভাবে এর শিকার হলেও নানান কারণে মুখ খুলতে চান না। দেশের তারকা শুটার কামরুন্নাহার কলি এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান কথা লিখেছেন। 

কিছু দিন আগে শুধু মাত্র শুটিং নিয়ে মিডিয়াতে ইতিবাচক কথা বলার জন্য শোকজ পেয়েছিলেন কলি। এখনও এর রেশ কাটেনি।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কলি ফেসবুকে লেখেন, ‘আমরা যারা খেলাধুলার মাঠে আমাদের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করছি, আমাদের জীবনের প্রতিটি ঘাম, পরিশ্রম, মানসিক শক্তি—সব কিছুই দেশের পতাকা উঁচু করার জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই ক্রীড়াঙ্গনে নারী খেলোয়াড়রা আজ নিরাপদ নয়। আমাদের অনেকেই প্রতিদিন মানসিক চাপ, অপমান, এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হচ্ছি।’

এরপরই কিছু কর্মকর্তার দিকে ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘উচ্চপদস্থ কিছু কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে নারী অ্যাথলেটদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। আরও কষ্টের বিষয়, কিছু নারী কোচ বা নারী কর্মকর্তাও সেই অন্যায় ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছেন।’ 

‘আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি স্পোর্টস ফেডারেশনে এক ধরনের সিন্ডিকেট কালচার তৈরি হয়েছে—যেখানে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও কোচ নিজের পছন্দের মানুষদের সুবিধা দেন, আর অন্যদের অযথা মানসিক চাপে রাখেন, সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন।’

এরপরই যোগ করেন, ‘এই সিন্ডিকেটের আরেকটা নোংরা খেলা হলো অপছন্দের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং অভিযোগের পক্ষে নিজেদের খেলোয়াড় দিয়েই সাক্ষী দেওয়ানো। এটা আর সাধারণ অব্যবস্থা নয়, এটা এখন এক ধরনের নোংরা ক্ষমতার খেলা। যেখানে ট্যালেন্ট, পরিশ্রম, সাফল্য নয়— বরং সম্পর্ক, তোষামোদ আর সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠতা নির্ধারণ করে কে সুযোগ পাবে, কে বঞ্চিত হবে।’

কলি প্রশ্ন রাখেন, ‘নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা কোথায়? বিসিবি ব্যতীত আরও যে ৫০টা ফেডারেশন রয়েছে, সে সব ফেডারেশনের চিত্র ঠিক একই কোথাও নারী খেলোয়াড়রা নিরাপদ নয়।’ 

জাহানারা আলম আপুর মত সাহসী আর পরিচিত মুখ নয় বলে অনেকেই ক্যামেরার সামনে এসে এসব বলতে পারে না মন্তব্য করে তিনি লেখেন, ‘আর যদি কেউ বলতে চায় তাহলে তাকে প্রশ্ন করা হয় এর কী কোনও প্রমাণ আছে? আরে ভাই চার দেয়ালের মাঝখানে হয়ে যাওয়া ঘটনার কী প্রমাণ থাকে একজন ব্যক্তি যখন কানে কানে ফিসফিস করে বলে তোমার পিরিয়ডের আর কয়দিন বাকি সে কথার কোন তৃতীয় ব্যক্তি প্রমাণ থাকে না। আমার দিকটাও কিন্তু দেখতে হবে এই কথাগুলো অবশ্যই কোনও সাক্ষী প্রমাণ রেখে বলা হয় না।’ 

‘একটা অফিসে যখন কোনও খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে গিয়ে কমিটির সবাই মিলে তিন থেকে চার ঘণ্টা টানা মানসিক নির্যাতন করে এবং সেখানে তাদের পছন্দের খেলোয়াড়রা উপস্থিত থাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তখন এই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে অন্য কাউকে পাওয়া যায় না।’

এরপরই কলির আহ্বান করে লেখেন, ‘আমরা নীরব থাকলে, আগামী প্রজন্মও ভয় পাবে মাঠে নামতে। এখন সময় এসেছে—নারী খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য শক্ত আইন প্রয়োগের। নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির। ক্রীড়াঙ্গনে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নৈতিকতার পুনর্গঠনের।’

তবে কলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ নিয়ে সরাসরি কোনও কথা বলতে চাননি। 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin