জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার শাহবাগে জুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শুনানিতে সাবেকমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ক্যানসারের কথা জানিয়ে তার রিমান্ড বাতিল চেয়েছেন আইনজীবী। কামরুলের আইনজীবী
আফতাব মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। রিমান্ড দিলে খারাপ কিছু হতে পারে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদেকুর রহমানের আদালতে শুনানির সময় তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার সকালে কারাগার থেকে কামরুলকে আদালতের হাজত খানা আনা হয়। বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট, হাতকড়া ও ডান হাতে লাঠিতে ভর দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবনের ছয় তলায় ১১ নম্বর কোর্টে আনা হয়। পরে কাঠগড়ায় হেলমেট ও জ্যাকেট খুলে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাইনুল খান পুলক ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্র পক্ষের অতিরিক্ত প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন, আদালতকে তিনি জানান, কামরুল ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তিনি। ওনার কাছে অনেক বিষয় জানার আছে।
পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী আলতাব মাহমুদ চৌধুরী বলেন, উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৭৬ বছর বয়স হয়েছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। খাবারের সমস্যা হলে ফুড পয়জিং এর সমস্যা শুরু হয়। এটা ওনার ২৩ নম্বর মামলা। এর আগেও ওনাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। উনি ক্যানসারে আক্রান্ত।
ওনাকে রিমান্ডে দেওয়ার অবস্থা নেই। রিমান্ড দেওয়া হলে ওনার খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। উনি এ আদালতে এসে বারবার আক্রান্ত হয়েছেন। ওনাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ দেওয়া হোক।
আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, উনি এ এলাকার এমপিও ছিলেন না। একই ব্যক্তি একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় কীভাবে থাকেন? উনি এসব মামলায় জড়িত না।
উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরপর আইনজীবী কামরুল ইসলামকে চকলেট, পানি পানের অনুমতি চান। আদালত পানি পান ও চকলেট দেওয়ার অনুমতি দেন।
এরপর আবার কামরুল ইসলামকে আদালত থেকে হাতজ খানা নেওয়া হয়। এসময় তাকে একটু দ্রুততার সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় কামরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে যান এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের ওপর চটে যান। বলেন,‘এভাবে ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কি করছেন কেন?’ পরে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।