লালনকন্যার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

লালনকন্যার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে শিল্পীকে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদা পারভীনের মেয়ে জিহান ফারিহা জানান, তার মোয়ের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক খারাপ। তাকে জেনারেশন ফোর মেডিসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী গতকাল (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বলেন, ‘তার কিডনি, ব্রেইন কাজ করছে না। লাং-এ সমস্যা। হার্টে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আছে। রক্তের ইনফেকশন শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মাল্টি অর্গান ফেইলিউর। রক্তচাপ কম থাকার কারণে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।’

এদিকে ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নুমানী বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে মায়ের শারীরিক অবস্থা জানিয়েছেন বিস্তারিত।তিনি লিখেছেন, ‘আম্মাকে (ফরিদা পারভীন) গত বুধবার বিকেল থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। গত বিকেল থেকেই উনার স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্লাডপ্রেশারও নেই। এখন ডাক্তাররা সর্বোচ্চ মাত্রার ওষুধ দিয়ে কৃত্রিমভাবে তাঁর ব্লাড প্রেশার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। মেশিনের মাধ্যমে তাঁর ফুসফুসটা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই পরিস্থিতিতে আম্মার শারীরিক অবস্থার উন্নতির আর তেমন কোনও আশা নেই। তারপরও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আমরা আরও কিছু সময় ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে এই লাইফ সাপোর্টটা চালিয়ে নিচ্ছি। সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।’

নুমানী আরও বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও নিশ্চিত করছি, আম্মার চিকিৎসার জন্য আর্থিক বা অন্য কোনও ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। সবাই আম্মার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহপাক তার অসীম দয়ায় আম্মার এই শেষ সময়কে সহজ ও শান্তিময় করুন।’ 

ক্যারিয়ারের শুরুতে দেশাত্মবোধক গান গাইলেও ফরিদা পারভীনের পরিচয় গড়ে ওঠে লালনকন্যা হিসেবে। তার কণ্ঠে ‘মিলন হবে কত দিনে, ‘অচিন পাখি’ গানগুলো আজও বাঙালির চেতনার অংশ হয়ে আছে।

সংগীতে অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে একুশে পদক পেয়েছেন ফরিদা। জাপান সরকার তাকে কুফুওয়া এশিয়ান কালচারাল পদক দিয়েছে। ফরিদা পারভীন কেবল নিজের গান করেননি; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালনের গান শিখিয়েছেন। তার উদ্যোগে তোলা হয় অচিন পাখি স্কুল, যেখানে শিশুদের শেখানো হয় আধ্যাত্মিক শক্তির মর্ম ও গান।

Comments

0 total

Be the first to comment.

এক টিকিটে তিন নাটক! BanglaTribune | বিনোদন

এক টিকিটে তিন নাটক!

নাট্যপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য সন্ধ্যা অপেক্ষা করছে! চারুনীড়ম থিয়েটার উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের ১০০তম ম...

Sep 13, 2025

More from this User

View all posts by admin