মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন সেনাপ্রধান কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর হাই কনস্টিটিউশনাল কোর্ট ভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শপথ গ্রহণ শেষে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ জনতার উদ্দেশ্যে র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বলেন, মাদাগাস্কার প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পূর্ণ ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। জাতীয় ঐক্য ও মানবাধিকার রক্ষায় আমি সর্বস্ব উৎসর্গ করব।
বক্তব্য শেষে সামরিক কর্মকর্তারা তলোয়ার উঁচিয়ে এবং ট্রাম্পেট বাজিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
কথিত জেন-জি আন্দোলনে গত সপ্তাহে দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা। এরপর পার্লামেন্ট তাকে অভিশংসন করলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতা দখলের বৈধতা দেয়।
তবে নির্বাসন থেকে রাজোয়েলিনা সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে নিজেকে এখনও বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করছেন।
মাদাগাস্কারে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও আফ্রিকান ইউনিয়ন। অনেক তরুণ রাজোয়েলিনা সরকারের পতনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও সেনাবাহিনীর দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
সেনাপ্রধান এবং সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট র্যান্ড্রিয়ানিরিনা ঘোষণা দিয়েছেন, পার্লামেন্ট বাদে দেশের সব প্রতিষ্ঠান স্থগিত রেখেছে সেনাবাহিনী।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সেনা নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনা করবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচন আয়োজন করবে।
সেনাবাহিনীর চৌকস ইউনিট ‘ক্যাপস্যাট’-এর সাবেক কমান্ডার ছিলেন র্যান্ড্রিয়ানিরিনা। ২০০৯ সালে রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতায় আনতে এই গোষ্ঠীর মুখ্য ভূমিকা ছিল। তবে সর্বশেষ আন্দোলনে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালাতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার মাদাগাস্কারে গড় বয়স ২০ বছরের নিচে। দেশটির তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার মধ্যে বাস করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৪৫ শতাংশ কমেছে।