বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা কার্যক্রম শুরু হবে আগামী নভেম্বর মাস থেকে। দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে ধাপে ধাপে এ সেবা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মডিউল চূড়ান্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক চাহিদা নিরূপণে ‘ট্রেইনিং ম্যাটেরিয়াল অ্যান্ড ম্যানুয়াল ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ইউজিসি ও ইউনেস্কো যৌথভাবে কমিশনের অডিটোরিয়ামে দুদিনব্যাপী এই কর্মশালা আয়োজন করেছে।
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বিশেষ মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মডিউলে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের সেবা প্রয়োজন সেটি তুলে ধরা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের বিষয়টি যুক্ত করা দরকার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওযা যেতে পারে।
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সহিষ্ণুতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে উল্লেখ করে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক মাছুমা হাবিব বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য ইউনেস্কোর সহায়তায় ইউজিসি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে, শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কোন্নয়ন এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং আচরণে পরিবর্তন আসবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
ইউজিসির পরিচালক জেসমিন পারভিন বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ইউসেনেস্কোর প্রতিনিধি রাজু দাস বলেন, এই মডিউলটি আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক দক্ষতা এবং জীবনদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে; যা শিক্ষার্থীদের সচেতন অংশগ্রহণ ও সমাজমুখী আচরণে সহায়তা করবে।
ইউনেস্কোর প্রত্যাশা এর বিষয়বস্তু হোক নির্দিষ্ট, ভারসাম্যপূর্ণ, সাংস্কৃতিকভাবে সংযুক্ত ও বিকাশগতভাবে প্রাসঙ্গিক। এটি শুধু শেখার নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ। এই মডিউলের মাধ্যমে সামাজিক-আবেগিক সুস্থতা শিক্ষা নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত হবে; যা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাস্তব অবদান রাখবে।
ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জেসমিন পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য রাখেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েট অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট অধ্যাপক মো. রাফিউজ্জামান।
কর্মশালায় ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, কাউন্সিলর, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী এবং ইউজিসি কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।