মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন দেশটির সেনাপ্রধান কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এ কথা বলেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা খুব শিগগিরই শপথ নেব।
কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা মঙ্গলবার বলেছিলেন, সেনাবাহিনী দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেছে এবং পার্লামেন্ট ছাড়া অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
মাদাগাসকারের সাংবিধানিক আদালত ইতোমধ্যে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
দুই কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আগামী দুই একদিনের মধ্যেই সেনাপ্রধান র্যান্ড্রিয়ানিরিনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।
কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা ঘোষণা করেছেন, সামরিক নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে এবং তারপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে নতুন নির্বাচন আয়োজন করবে।
কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট ক্যাপসাটের কমান্ডার ছিলেন। ২০০৯ সালের অভ্যুত্থানে রাজোয়েলিনাকে ক্ষমতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল দলটি। তবে দেশটিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কথিত জেন-জি আন্দোলনে তিনি সরকারের বিরোধিতা করেন এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালাতে সেনাবাহিনীকে আহ্বান জানান।
এদিকে, পুরো বিষয়টাকে অবৈধ অভ্যুত্থান বলেছেন নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিই রাজোয়েলিনা। দেশ ছাড়ার পর পার্লামেন্ট সদস্যরা তাকে অভিশংসিত করেছে। তবে তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাজোয়েলিনা রবিবার ফরাসি সামরিক বিমানে করে দেশত্যাগ করেন এবং বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। ৫১ বছর বয়সী এই সাবেক ডিজে ২০০৯ সালে যুব আন্দোলনের জোয়ারে ক্ষমতায় আসেন এবং ৩৪ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সি রাষ্ট্রপ্রধান হন। কিন্তু দারিদ্র্য হ্রাস ও দুর্নীতি দমনসহ তার বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থেকে যায়।
প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাসকারে গড় বয়স ২০ বছরেরও কম এবং তিন-চতুর্থাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৪৫ শতাংশ কমেছে।