মাদাগাস্কারের সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা এবার সেনাবাহিনীর সমর্থন পাচ্ছেন। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানী আনতানানারিভোর ঐতিহাসিক ‘মে ১৩’ চত্বরে সেনাপ্রহরায় অবস্থান গ্রহণ করেন তারা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রয়োজনে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছ এলিট ইউনিট ‘ক্যাপসাট’। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ক্যাপসাট সদস্যদের ‘জনগণের পাশে থাকার’ আহ্বান জানাতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার ক্ষমতা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ক্যাপসাট ইউনিট।
স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু সেনা ব্যারাক ছেড়ে বেরিয়ে বিক্ষোভকারীদের ‘মে ১৩’ চত্বরে নিয়ে যাচ্ছেন।
অতীতে বহু রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছে ওই স্থান থেকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চত্বরটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় ছিল এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
কেনিয়া ও নেপালে তরুণ বা কথিত জেনারেশন জেডের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাদাগাস্কারে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পানি ও বিদ্যুতের দাবিতে ২৫ সেপ্টেম্বর আরম্ভ হওয়া আন্দোলন পর্যায়ক্রমে সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিশেষত ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচনের পর থেকে এতটা চাপ সামলাতে হয়নি ক্ষমতাসীনদের।
বিক্ষোভকারীরা এখন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার পদত্যাগ, জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং পার্লামেন্ট ও নির্বাচন কমিশন বিলুপ্তির দাবি জানাচ্ছেন।
আন্দোলনের চাপে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা ভেঙে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন।
চলমান অস্থিরতায় অন্তত ২২ জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। সরকার এই পরিসংখ্যান অস্বীকার করে জানিয়েছে যে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।