আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবরোধে আফ্রিকার দেশ মালিতে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানিসংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার (২৭ অক্টোবর) থেকে অন্তত দুসপ্তাহের জন্য দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। রবিবার রাতে সরকারের তরফ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে স্থলবেষ্টিত দেশটিতে জ্বালানি আমদানিতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেয় জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) নামের সশস্ত্র গোষ্ঠী। এরপর থেকে মালিতে আমদানির চেষ্টা করা জ্বালানি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে তারা। এমনকি ইতোমধ্যে আমদানিকৃত তেল রাজধানীতে পরিবহনকালেও বাগড়া দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মালির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
পরিস্থিতি এতোটাই বেগতিক যে, রাজধানী বামাকোর একাধিক জ্বালানি স্টেশন ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তেল কিনতে ব্যর্থ হয়ে অনেকে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দিন কয়েক আগেই মালিতে জ্বালানি সরবরাহের অঙ্গীকার করেছিল রুশ সরকার। শুক্রবার রুশ প্রতিনিধিদলের তরফ থেকে জানানো হয়, শিগগিরই এক লাখ ৬০ হাজার থেকে দু লাখ মেট্রিক টন তেল ও কৃষিপণ্য সরবরাহ করবে মস্কো। অবশ্য প্রতিনিধিদলের প্রধান অ্যালেক্সেই কেউলিকা জ্বালানির ধরন বা সরবরাহের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে কিছু জানাননি।
এর আগে ২০২৪ সালে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পর ভয়াবহ বন্যার কারণে মালিতে শিক্ষাবর্ষ শুরুর তারিখও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।