ইরানের ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। তবে সেটি ভেস্তে গেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমানে এই পরিকল্পনা থেকে আর কোনও হুমকি নেই।
গোপনীয়তার শর্তে কথা বলা ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আইনাত ক্রানজ নাইগারকে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে এবং চলতি বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। ষড়যন্ত্রটি ভেস্তে গেছে এবং এটি এখন কোনও হুমকি সৃষ্টি করছে না।
তিনি আরও বলেন, এটি কেবল ইরানের দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক নীতি। তারা কূটনীতিক, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সমালোচকদের হত্যার টার্গেট করে। এটি এমন এক প্রবণতা, যা যে কোনও দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।
মার্কিন কর্মকর্তা বিস্তারিতভাবে জানাননি কীভাবে ষড়যন্ত্রটি ব্যর্থ করা হয়েছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বহুবার অভিযোগ করেছে যে, ইরান ও তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো বিদেশে তেহরান-বিরোধী ব্যক্তিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে আসছে।
গত বছর ব্রিটেন ও সুইডেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, তেহরান ওই দেশগুলোতে অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের পর থেকে ইরান-সম্পর্কিত ২০টি ষড়যন্ত্র তারা ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যে আরও এক ডজন দেশ ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার অপহরণ, হয়রানি ও হত্যাচেষ্টার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫-এর মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম গত মাসে বলেছিলেন, ইরান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের চুপ করাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ইরানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে বিরোধী ইহুদি ষড়যন্ত্রে, আর নেদারল্যান্ডস একটি ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।