মেলানিয়ার টুপি, কেটের ব্রোচ আর ফ্যাশন কূটনীতি

মেলানিয়ার টুপি, কেটের ব্রোচ আর ফ্যাশন কূটনীতি

ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফর মানেই শুধু বৈঠক আর আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং রাজপরিবার ও অতিথিদের পোশাকও আলোচনায় আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরে তাই দেখা যাচ্ছে কূটনীতির সঙ্গে ফ্যাশনের মিশ্রণ।

মেলানিয়া প্রথম দিন উইন্ডসর ক্যাসেলে হাজির হন চওড়া-প্রান্তের বেগুনি টুপি ও ডিওরের গাঢ় ধূসর স্যুট পরে। স্টাইলিস্ট মারিয়ান কওয়ের মতে, টুপিটি শুধু ফ্যাশনের জন্য নয়, বরং ইঙ্গিত করছে যে মেলানিয়া স্পটলাইট স্বামীর উপরই রাখতে চাইছেন। এমনকি টুপির রঙ মেলানো হয়েছে ট্রাম্পের টাইয়ের সঙ্গে, যা তার রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতীক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এরপর তিনি পরেন বারবারির ক্লাসিক ট্রেঞ্চ কোট, যেটিকে ব্রিটিশ ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের ফ্যাশন সমালোচক ভ্যানেসা ফ্রিডম্যান একে ‘সার্টোরিয়াল ডিপ্লোমেসি’ বা পোশাকের মাধ্যমে কূটনৈতিক বার্তা পাঠানো বলে অভিহিত করেছেন।

রাজা–রানির মিল, কেটের কূটনৈতিক বার্তা

রানি ক্যামিলা পরেছেন ফিওনা ক্লেয়ারের ডিজাইন করা উজ্জ্বল নীল পোশাক, সঙ্গে ফিলিপ ট্রেসির টুপি ও নীলকান্তমণি–হীরের ব্রোচ। এদিকে, প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট হাজির হন এমিলিয়া উইকস্টেডের বারগান্ডি রঙের পোশাক ও মানানসই টুপিতে। তার কাঁধে ছিল পালকের আকৃতির ব্রোচ।

কেটের পোশাকের রঙ মিলে গেছে প্রিন্স উইলিয়ামের টাইয়ের সঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, দম্পতির এই মিলিত সাজ একে অপরের প্রতি সমর্থন ও একাত্মতার প্রতীক।

ফ্যাশনে লুকানো বার্তা

রানি ও কেটের নীল–লাল পোশাকের সমন্বয় যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙের প্রতীক বলেও মনে করছেন বিশ্লেষক ভিক্টোরিয়া মারফি। তার কথায়, এটি স্পষ্টতই সমন্বিত কূটনৈতিক পোশাক, যা শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প দম্পতির এই সফরে যেমন রাজনীতি ও অর্থনীতি আলোচনায়, তেমনি পোশাক ও সাজসজ্জাও সমানভাবে কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

সূত্র: বিবিসি

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin