মেরুরজ্জুর আঘাত (স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি) একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হলেও আক্রান্তদের দেশে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা একেবারেই নেই বলে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে মেরুরজ্জুর আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুসনের সহযোগিতায় পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা করে সিআরপি।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি এবং প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন থাকলেও এখনো পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে কোনো মেরুরজ্জুর আঘাতকেন্দ্রিক জাতীয় নীতি, প্রোটোকল বা পুনর্বাসন সেবা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে মেরুরজ্জুর আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অপ্রতিরোধযোগ্য জটিলতা, সামাজিক বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক প্রান্তিককরণের শিকার হচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে গবেষণার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউটের (বিএইচপিআই) রিহ্যাবিলিটেশন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক পুনম ডি কস্তা। গবেষণায় উঠে আসা সমস্যা সমাধানে করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি টেইলর। তিনি বলেন, সিআরপিতে যে পরিষেবা দেওয়া হয়, সেটিকে চারটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এখানে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনর্বাসন দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন রোগী বাড়ি ফিরে গিয়ে যেন পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কাজ খুঁজে পান। যদি কোনো রোগী পূর্বের কাজে ফিরতে না পারেন, তবে তিনি সিআরপিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
মেরুরজ্জুর মতো গুরুতর আঘাতের চিকিৎসার অপ্রতুলতা রয়েছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শহর ছাড়া অন্য কোথাও সরকারি সুবিধায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায় না। এই সুবিধা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের (ডিজিএইচএস এনসিডিসি) লাইন ডিরেক্টর সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, বাসার পরিবেশের চেয়ে হাসপাতালের পরিবেশ ভালো হতে হবে। পুনর্বাসন সেবা মেরুরজ্জুর আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটা তাঁদের অধিকার।সিবিএম গ্লোবাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, এই গবেষণা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশনের (নিটোর) সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম, অর্থোপেডিকস ও স্পাইন সার্জারি বিশেষজ্ঞ মো. ফজলুল হক এবং বিএইচপিআইর সাবেক অধ্যক্ষ ওমর আলি সরকার। সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান সিআরপির হেড অব প্রোগ্রামস শাহনাজ সুলতানা।