রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন নিহত আবুল কালাম আজাদের (৩৫) স্ত্রী আইরিন আক্তার পিয়া।
সোমবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি মোবারক হোসেন) বলেন, ‘আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যদি অন্যকোনও অভিযোগ আসে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
যদিও এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা হওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেকেই।
“বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০”-এর ৩০৪(ক) ধারায় বলা আছে, “যে ব্যক্তি কোনও অবহেলা বা বেপরোয়া কাজ দ্বারা অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়, কিন্তু তা হত্যা নয়, সে ব্যক্তি সর্বাধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।” অর্থাৎ যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা না করে, কিন্তু তার অসতর্কতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে কারও মৃত্যু ঘটে, তবে সেটি “অবহেলাজনিত” মৃত্যু হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, রবিবার দিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন আবুল কালাম আজাদ। এ সময় মেট্রোরেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে তার মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত আবুল কালাম আজাদ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি এলাকার বাসিন্দা। ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি করতেন তিনি। আবুল কালাম স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় থাকতেন।