মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করতে কোনও সময় নষ্ট করেননি নিউ ইয়র্ক সিটির নব নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। ভোটে জিতে বিজয় ভাষণেই ট্রাম্পকে এক হাত নেন তিনি। বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পরপরই মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত ভিড়ের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমি যত দূর জানি, আপনি দেখছেন। আমি আপনাকে চারটি শব্দ বলতে চাই: আওয়াজ আরও জোরে তুলুন! (টার্ন দ্য ভলিউম আপ)”। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নগরের ব্রুকলিনে বিজয়ী ভাষণ দেন জোহরান। তিনি মঞ্চে ওঠার পর দর্শক-সমর্থকরা ‘জোহরান, জোহরান’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।
এক সমর্থক বলেন, ‘এ যেন সমুদ্রের গর্জন।’
প্রায় আধা ঘণ্টার ভাষণে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মামদানি আরও বলেন, ‘আজ আমরা স্পষ্ট কণ্ঠে বলেছি, আশা বেঁচে আছে। এটি এমন এক যুগ হবে, যেখানে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দারা তাদের নেতাদের কাছে আরও সাহসী ভূমিকা প্রত্যাশা করবেন।’
নির্বাচনি প্রচারের সময় সরাসরি মামদানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ভোটের আগে এমনকি তিনি নিজ দলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোকে সমর্থন জানিয়েছেন। জোহরান নয়, কুওমোকে ভোট দিতে নিউ ইয়র্কবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া মামদানি নির্বাচিত হলে নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য বরাদ্দ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল তহবিল আটকে দেবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প।
নয় মাস আগে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর, প্রথম বড় কোনও নির্বাচনে ট্রাম্প ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প। কারণ মঙ্গলবারের তিনটি নির্বাচনেই জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা,যা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে সামনে এনেছে এবং আগামী বছরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে দুর্বল অবস্থায় থাকা দলটিতে নতুন গতি এনে দিয়েছে। নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচনের জয়ী হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিএনএনের আভাস, নিউ জার্সির গভর্নর পদে মাইকি শেরিল এবং ভার্জিনিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনে এবিগেইল স্প্যানবার্গার জয়ী হচ্ছেন।
তবে মামদানি স্বীকার করেছেন, তার জয় বাস্তবে একটি চ্যালেঞ্জ। প্রচারণায় তিনি বলেছেন, ‘এই শহরের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে তিনি মাঠে নামছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রস্তাবিত ভাড়া স্থগিত, সর্বজনীন শিশু যত্ন এবং বেসরকারি খাতের ওপর লক্ষ করে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপ।