রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় শাহ আলম নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার ফায়ার সার্ভিস। যদিও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুন প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ঘটনাস্থলের ৫০০ গজের মধ্যে অবৈধ আরও তিনটি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছ। এসব গোডাউনে টেক্সটাইল কেমিক্যালের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক রয়েছে। যা থেকে যেকোনও সময় ঘটতে পারে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাসায়নিক কেমিক্যালের আগুন সাধারণত পানির সংস্পর্শে এলে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তাই এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কেমিক্যালের দাহ্য পদার্থ পুড়ে শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কেমিক্যালের রাসায়নিক বিষাক্ত গ্যাস ও পোড়া কালো ধোঁয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হওয়ার ঘটনাস্থলের ৩০০ গজের মধ্যে কাউকে না থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মিরপুরে আগুন লাগা কেমিক্যাল গোডাউনটি শাহ আলম নামে এক ব্যক্তির, স্থানীয়ভাবে এটি আলম কেমিক্যাল গোডাউন নামে পরিচিত। এটির নেই কোনও অনুমোদিত সনদ। আগুন লাগার পর থেকে শাহ আলম পলাতক।
এদিকে, আগুন লাগা আলম কেমিক্যাল গোডাউনের কয়েকটি প্লট পরেই রয়েছে আরও তিনটি কেমিক্যাল গোডাউন। যা স্থানীয়ভাবে শাহ আলী কেমিক্যাল গোডাউন নামে পরিচিত।
তবে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহ আলী নামে ওই তিনটি কেমিক্যাল গোডাউন ‘ডাইসিন কেমিক্যাল’ নামে দেশের অন্যতম বৃহত্তম টেক্সটাইল ডাই ও কেমিক্যাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের, যার প্রধান কার্যালয় রাজধানীর বিজয় নগরে। ১৯৮৪ সালে মিজানুর রহমান এটি প্রতিষ্ঠা করেন, তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাইসিন গ্রুপ দেশের টেক্সটাইল শিল্পে ডাইং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও গার্মেন্টস ওয়াশিংয়ের প্রয়োজনীয় নানা ধরনের ডাই ও কেমিক্যাল সরবরাহ করে থাকে। মিরপুরের শিয়ালবাড়িসহ ঢাকা ও সারা দেশে তাদের ১৫টি গুদাম রয়েছে।
তাদের গুদামে ডাইং বা রং করার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রয়েছে। এর মধ্যে সোডা অ্যাশ, পার-অক্সাইড, সিকুয়েস্টারিং এজেন্ট, ওয়েটিং এজেন্ট, লেভেলিং এজেন্ট, এপ্রিটন, হাইড্রোজেন পারক্সাইড এবং সিলিকন সফটনার অন্যতম। এসব কেমিক্যাল কাপড়ের ময়লা ও প্রাকৃতিক রং দূর করতে, রং সমানভাবে বসাতে, রংয়ের স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং কাপড়ের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোডা অ্যাশ, পার-অক্সাইড, সিকুয়েস্টারিং এজেন্ট, ওয়েটিং এজেন্ট ও এপ্রিটন রাসায়নিকগুলো সাধারণত ডাইং, গার্মেন্টস ও ডিটারজেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এসব কেমিক্যাল দাহ্য, বিষাক্ত ও বিক্রিয়াশীল বৈশিষ্ট্যের কারণে এগুলো মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদার্থগুলো সামান্য তাপ, আগুন বা পানির সংস্পর্শে এলে দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়, যা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব রাসায়নিক অনিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হলে তা শুধু প্রাণহানি নয়, ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
এদিকে ‘শাহ আলী’ নামের ওই তিনটি কেমিক্যাল গোডাউনের একটিতেও নেই ফায়ার প্ল্যান্ট, পরিবেশের ছাড়পত্র কিংবা রাজউক প্লান্ট। তবে সিটি করপোরেশনের অনুমতিপত্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, এই তিনটি গোডাউনে বাইরে নেই কোনও প্লাট নম্বর বা নেমপ্লেট।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপনগর শিল্প এলাকার কে-ব্লকের ৩ নম্বর সড়কে শাহ আলম কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। এদিন রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, এর পাশেই ২ নম্বর সড়কে ঢোকার মুখে বামপাশের প্রথম প্লটে পাঁচতলা ভবনে একটি এবং দুটি প্লট পরেই একটি টিনশেড প্লটে দুটি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এসব প্লটের কোনও নম্বর প্লেট নেই। তবে টিনশেড গোডাউনের পাশের তিনতলা ভবনটির প্লট নম্বর ১৪। ওই টিনশেড গোডাউনের গেটের ওপরের ফাঁকা দিয়ে দেখা যায় কার্টন ভর্তি বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালে রয়েছে সেখানে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68efbba4df615" ) );
২ নম্বর সড়কের একটি পোশাক কারখানার একজন ইনচার্জ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি গোডাউনের আগুন লেগেছে বলে সবাই জানতে পেরেছে। অথচ এই রোডে আরও দুটি গোডাউন রয়েছে, সেদিকে কারও কর্ণপাত নেই। এগুলোর অনুমোদন আছে কিনা, তারা কীভাবে এসব কেমিক্যাল রাখছে, কোন কেমিক্যাল কীভাবে রাখতে হবে? এসব বিষয়ে কেউ তদারকি করছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার আলম কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। ভবনের ওপর দিয়ে এই সড়কেও কেমিক্যালের বিভিন্ন ড্রাম ও আগুনের শিখা উড়ে এসছিল। যদি আগুনের একটি শিখা এসব গোডাউনে আসতো, তাহলে পুরো এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতো।’
একই সড়কে অবস্থিত রিয়া ফ্যাশন নামে একটি গার্মেন্টসের একজন সিকিউরিটি গার্ড বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা জানি এই দুটি গোডাউন ডাইসিনের। তারা এখানে বিদেশি বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল রাখে। আবার এখানে থেকে নিয়ে যায়। তবে কী ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে, তা জানা নেই।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68efbba4df65d" ) );
অন্যদিকে, পাশের ১ নম্বর সড়কে ঢোকার মুখে ছয়তলা ভবনে শাহ আলী বা ডাইসিনের আরও একটি কেমিক্যাল গোডাউনের সন্ধান মিলেছে। তবে এটিতেও প্লট নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের কোনও সাইনবোর্ড নেই। রূপনগর প্রধান সড়কের পাশে ২ নম্বর ও ১ নম্বর সড়কে লাগোয়া পাঁচতলা ও ছয়তলা দুটি ভবনের ভেতর দিয়ে সংযোগ রয়েছে।
গভীর রাতে তিনটি গোডাউন থেকে কেমিক্যাল হস্তান্তর
এদিকে আলম কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগার দিন গভীর রাতে ১ নম্বর ও ২ নম্বর সড়কের এসব গোডাউন থেকে কাভার্ড ভ্যানে করে সিংহভাগ কেমিক্যাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে।
রাত দুইটার দিকে ১ নম্বর সড়কের ছয়তলা ভবনের শাহ আলী বা ডাইসিন নামে কেমিক্যাল গোডাউন থেকে মাঝারি আকারের একটি কাভার্ড ভ্যানে কেমিক্যাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
এরপর ভোররাত চারটার দিকে ঢাকা মেট্রো উ-১১৬৯৮০ নম্বরের আরেকটি কাভার্ড ভ্যানে করে আবারও কেমিক্যাল লোড করা হয়। রাত ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে কেমিক্যালসহ গাড়িটি মিরপুর স্টেডিয়াম হয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের দিকে চলে যায়। এরপর সর্বশেষ একই নম্বরে গাড়িটি আবার এসে ভোর সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে একই ভবন থেকে কেমিক্যাল লোড করে। এরপর গাড়িটি ৬টা ৫ মিনিটের দিকে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়াম হয়ে ১১ নম্বরের দিকে চলে যায়।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68efbba4df694" ) );
এ বিষয়ে জানতে শাহ আলী ও ডাইসিন কেমিক্যাল লিমিটেডের সঙ্গে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও সাক্ষাৎ বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে ছয়তলা ভবন থেকে প্রথম কাভার্ড ভ্যানে কেমিক্যাল হস্তান্তরের সময় জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত মিজানুর রহমানে নামে এক ব্যক্তি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ভবনে কোনও কেমিক্যাল নেই। কয়েক বছর আগে ফাঁটল ধরায় এই ভবনটি লোহার পাইপ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।’
গাড়িতে করে কী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাপড়ে রং ও রং করার জন্য কিছু সামান্য কেমিক্যাল। তবে এগুলো দাহ্য পদার্থ না। আমরা নিয়ম মেনেই টেক্সটাইলের কিছু কেমিক্যাল বিক্রি করে থাকি।’
আবাসিক এলাকায় এসব কেমিক্যাল গোডাউনে অনুমোদন হলো কীভাবে, জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুন লাগা আলম কেমিক্যাল গোডাউনের কোনও ধরনের লাইন্সেন্স, ছাড়পত্র বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। পাশে যেসব কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেগুলোও অনুমোদন থাকার কথা না। সাধারণত এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রথম অনুমোদন দিয়ে থাকে সিটি করপোরেশন, রাজউক, শিল্পমন্ত্রণালয় এরপর আমরা। তারা অনুমোদন দিয়ে থাকলে আমরা ফায়ার প্ল্যান্ট দিয়ে থাকে। তবে এই ঘটনার পর আমরা সব জায়গায় একযোগে পরিদর্শনে নামবো। কতগুলো কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেগুলো কীভাবে আছে, এসব যাচাই-বাছাই করা হবে।’
এদিকে এসব কেমিক্যাল গোডাউনগুলোর কোনও অনুমোদন আছে কিনা বা সিটি করপোরেশন থেকে লাইন্সে দেওয়া হয়েছে কিনা? এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কোনও সাড়া দেননি। তবে মিরপুরের অঞ্চল-৪ এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেকোনও ব্যবসার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের লাইন্সে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান, গোডাউন বা কারখানা পরিদর্শনের কথা থাকলেও প্রকৃত অর্থে তা করা হয় না। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু ব্যক্তি যেকোনও ধরনের ব্যবসার লাইসেন্স সহজে দিয়ে দেয়।’
অনুমোদনহীন এসব গোডাউনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুসান বলেন, ‘নিমতলী ও চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর একাধিকবার তদন্ত কমিটি কাজ করলেও মূল সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। আবাসিক ভবনে দাহ্য ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব জায়গা মানুষের আবাসিক বসবাসের জন্য নির্ধারিত, সেখানে রাসায়নিক সংরক্ষণ সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বেআইনি। প্রতিটি কেমিক্যালেরই সেফটি ডেটা শিট (এসডিএস) থাকে, যেখানে উল্লেখ থাকে কোনটি দাহ্য, কোনটি বিষাক্ত বা কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু পুরান ঢাকাসহ দেশের কোথাও এই নির্দেশিকা মানা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সোডা অ্যাশ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পার-অক্সাইড বা সিকুয়েস্টারিং এজেন্টের মতো কেমিক্যাল বার্ন হলে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, যা পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’
‘এগুলোর সংরক্ষণ, ব্যবহার বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনও স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল মানা হয় না—গার্মেন্টস, ডাইং ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে ছোট কারখানাগুলোতেও একই চিত্র’, বলেন তিনি।
অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুসান আরও বলেন, ‘চকবাজারের ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছিল, আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই কমিটির সুপারিশগুলোর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।’
ড. সুসান মনে করেন, কেমিক্যাল ব্যবসা ও সংরক্ষণের জন্য পৃথক নির্ধারিত শিল্প এলাকা তৈরি করা ছাড়া এই বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা নিজেদের দায় একে অপরের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে—এখানে মূল সমস্যা সমন্বয়ের অভাব। লাইসেন্সিং থেকে মনিটরিং পর্যন্ত একটি একক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যারা কঠোরভাবে তদারকি করবে কোন কেমিক্যাল কোথায়, কী পরিমাণে ও কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।’
সরকার গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় কোনও ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন থাকা বেআইনি; বাস্তবে এটার কোনও নির্দেশনা মানা হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এতে নজরদারি বা তত্ত্বাবধায়নের কোনও কার্যকর অথরিটি নেই। গোডাউনের কোনও ছাড়পত্র আছে কিনা, যারা দিয়েছে তারা কারা, এসবের স্পষ্ট তথ্য নেই।’
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুপালন এবং কেমিক্যাল ব্যবহারের ওপর প্রযোজ্য সুরক্ষা আইন না থাকায় পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে; ফলে শ্রমিক ও আশপাশের কমিউনিটি দু’পক্ষই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষত বিস্ফোরণের সময় নির্গত গ্যাসের বিস্তার মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। শ্বাসকষ্ট, ত্বক-চোখের জ্বালা এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রসংক্রান্ত রোগ বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চাইলে আন্তঃবিভাগীয় উদ্যোগ নিতে হবে—ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ, শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম পরিদর্শন, সিটি করপোরেশন ও কমিউনিটি লেভেলের সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে তৎক্ষণিক তল্লাশি ও স্থানান্তর কার্যক্রম চালাতে হবে। শুধু জনসচেতনতা চালু করলেই হবে না; সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে মালিক-শ্রমিক-কমিউনিটি অংশীদারিত্বে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে এবং কেমিক্যাল শিল্পগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে নিরাপদ শিল্পবন্দর বা নগরাঞ্চলের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নাহলে একই রকম দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে।’