মিশিগানের ল্যাটার-ডে সেইন্টস গির্জায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত থমাস জেকব স্যানফোর্ড ইরাক যুদ্ধের একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা। সামরিক নথি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট থেকে জানা গেছে, তিনি একজন প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। এছাড়া তার সন্তান বিরল জিনগত রোগে ভুগছে বলেও জানা গেছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি ওই গির্জার সদর দরজা দিয়ে ঢুকে এলোপাথারি গুলি চালান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মিশিগানের বার্টনের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী স্যানফোর্ড গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্কে অবস্থিত চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টসে গুলি চালিয়ে আটজনকে আহত করে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্যানফোর্ড চার্চে আগুনও ধরিয়ে দেয় এবং পরে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত হয়।
মেরিন কর্পসের এক মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, স্যানফোর্ড সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেবাকালে তিনি বেশ কয়েকটি পদক পেয়েছিলেন। তার দায়িত্বকাল ছিল ২০০৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত। ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে তিনি কয়েক মাসের জন্য অপারেশন ইরাকি ফ্রিডমের অংশ হিসেবে ইরাকে মোতায়েন ছিলেন।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68da08ef40e2e" ) );
স্যানফোর্ড ২০০৪ সালে গুডরিচ হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন। বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের সংরক্ষিত একটি পাতায় অন্য ভেটেরান সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পসের হয়ে জাপানে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ইরাকে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেন।
স্যানফোর্ডের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানা যায়, তিনি বিবাহিত ছিলেন। তার অন্তত একটি সন্তান রয়েছে, একটি ছোট ছেলে। ২০১৫ সালের একটি গোফান্ডমি পাতায় উল্লেখ করা হয়েছিল, স্যানফোর্ডের নবজাতক ছেলের চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। শিশুটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্মায়।
পরিবারের ফেসবুক পেজ অনুযায়ী, নবজাতক শিশুটি জন্মগত হাইপারইনসুলিনিজমে ভুগছিলেন। অর্থাৎ শিশুর অগ্ন্যাশয় অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত ইনসুলিন উৎপাদন করে। যার কারণে তাকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হয় এবং অগ্ন্যাশয়ের বেশ কয়েকটি অংশ অপসারণ করতে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়।শিশুটির অসুস্থতা পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলে দেয়।
স্থানীয় এক সংবাদ প্রতিবেদন জানায়, ছেলের পাশে থাকতে স্যানফোর্ড কোকা-কোলায় ট্রাক চালকের চাকরি থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। অন্য এক প্রতিবেদনে স্যানফোর্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, সুস্থ সন্তান পাওয়াকে কখনোই অবহেলা করবেন না। আমি মেরিন কর্পসে চার বছর কাটিয়েছি, ইরাকে ছিলাম, আর তবুও এটাই সবচেয়ে অনন্য চ্যালেঞ্জ।
স্যানফোর্ডের মায়ের ফেসবুক পোস্টগুলোতে দেখা যায়, তিনি একজন শিকারি ছিলেন এবং হরিণসহ বিভিন্ন শিকারের সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন।