বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। একই দিন আবার বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্টের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় মুশফিকুর রহিম। তার মাইলফলক টেস্টের প্রসঙ্গই প্রাধান্য পেয়েছে মঙ্গলবারের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তটি দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ দলের হেড কোচ ফিল সিমন্সও।
ম্যাচের আগে তিনি মুশফিককে নিয়ে বলেছেন, ‘পেশাদারিত্ব, দীর্ঘ পথচলা আর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খেলতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছাই মুশফিককে অন্য সবার থেকে আলাদা করে।’
প্রথম টেস্ট জেতা বাংলাদেশ বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে।
এক সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলা সিমন্স নিজে বহু কিংবদন্তিকে ১০০ টেস্ট ছুঁতে দেখেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাই মুশফিকের মাইলফলক টেস্টের প্রসঙ্গ উঠতেই শিষ্যের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘১০০ টেস্ট খেলা সহজ নয়। বাংলাদেশ তো বছরে ১৫টা টেস্ট খেলে না। তাই এটা অর্জন করতে তার অনেক সময় লেগেছে, আর এর মূল্যায়ন আমরা অবশ্যই করবো। অল্প সময় তার সঙ্গে কাজ করে যা দেখেছি, পেশাদারিত্বের পর্যায়টা অসাধারণ। তাই আগামীকাল যখন মুহূর্তটি আসবে, সেটা দেখার জন্য আমি খুবই উচ্ছ্বসিত থাকবো।’
দীর্ঘদিন ধরে সাফল্য ধরে রাখা এবং টেস্টের মতো কঠিন ফরম্যাটে টিকে থাকার জন্যও মুশফিকের প্রশংসা করেছেন সিমন্স। তার মতে, ‘তার সাফল্যের রহস্য হলো পেশাদারিত্ব। নিজেকে কীভাবে গঠন করবে, কীভাবে নিজের খেলা উন্নত করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হওয়ার জন্য কাজ করবে। পেছনে তাকালে দেখা যায়, সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল। সেটিই তাকে এত দিন ধরে রেখেছে। এর পাশাপাশি আছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি; যা ১০০ বা ১৫০ টেস্ট খেলা সব ক্রিকেটারের মধ্যেই থাকে নিজেকে চালিয়ে যেতে, আরও ভালো করতে, নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে।’
আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য মুশফিকের ক্যারিয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন সিমন্স, ‘মুশফিকের বার্তাটা হলো পেশাদারিত্ব। নিজেকে কীভাবে পরিচালনা করবে, কীভাবে ট্রেনিং করবে এবং উন্নতি করতে চাইবে। এই পর্যায়ে স্থির হয়ে থাকা যায় না, সবসময় উন্নতির চেষ্টা করতে হয়। কারণ প্রযুক্তির যুগে ক্রিকেট দুনিয়া খুব ছোট, সবাই সবসময় আপনাকে বিশ্লেষণ করছে। তাই আপনাকে বদলাতে হবে। আমি নিশ্চিত, মুশফিকও তার ক্যারিয়ারে বহুবার নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছে।’